এল নিনোর প্রভাব: খাদ্যসঙ্কটে পড়বে বিশ্ব

khadyআবহাওয়ার বৈরী আচরণে বিশ্বজুড়ে চালের উৎপাদন কমে বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইআরআরআই) আগাম এ সতর্কবার্তা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী সমরেন্দ্র মোহান্তি লন্ডনভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

আইআরআরআই বিজ্ঞানি বলেন, ‘এল নিনোর প্রভাবে খরা, উষ্ণ আবহাওয়ার প্রভাবে চলতি মৌসুমে ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যাণ্ড এবং ভিয়েতনামে উৎপাদন ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বিশ্বের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ চাল উৎপাদন হয় এসব দেশে।’

বছরের শেষ নাগাদ এসব দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ ১৯ মিলিয়ন টনে গিয়ে দাঁড়াতে পারে, যা ২০১৩ সালে ছিল ৪৩ মিলিয়ন টন। ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্য সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করেছে জানিয়ে বিশ্ব ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এ বিজ্ঞানী বলেন, ‘আবহাওয়ার বৈরী আচরণ অব্যাহত থাকলে চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে।’

সমরেন্দ্র মোহান্তি বলেন, ‘পরিস্থিতি কতটা ভয়ানক হবে তা নির্ভর করছে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাতের উপর। ইন্দোনেশিয়া ও ভারতে খরার প্রভাব বেশি পড়লে এবং আবাদি ফসল প্রয়োজনীয় বৃষ্টির পানি না পেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।’

ভারতে সাধারণত বর্ষা মৌসুম জুলাই মাসে শুরু হয়ে শেষ হয় সেপ্টেম্বরে। এসময় বছরের মোট বৃষ্টিপাতের তিন চতুর্থাংশ হয়ে থাকে। আইআরআরআই বিজ্ঞানী আরো বলেন, এখন পর্যন্ত যে অবস্থা তাতে ২০০৮ সালের খরার পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা নেই, তবে সেরকম পরিস্থিতির দেখা দিলে হা-হুতাশ না করে অতীত অভিজ্ঞতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ায় মনোযোগী দিতে হবে।

বিশ্ব আবহাওয়া সিস্টেমে এল নিনো প্রভাব বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ক’বছর পর পর এল নিনোর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আবহাওয়ায় পরিবর্তন ঘটছে।

২০০৮ সালে এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ায় চালের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায়।উৎপাদন কমায় চাল রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্ববাজারে চালের টনপ্রতি দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার মার্কিন ডলারে।

আবহাওয়ার বৈরী আচরণে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় হত জুলাই থেকে বিশ্ববাজারে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। গত মাসে টনপ্রতি এ দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯০ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার। থাইল্যান্ডে উৎপাদন ২০১৩ সালের অর্ধেকে নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই বছরের চেয়ে এবছর উৎপাদন কমতে পারে ১৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন।

 

SHARE

LEAVE A REPLY