জ্বলছে গঙ্গাচড়া ।। মাহামুদা রিনি

গঙ্গাচড়ার ঘর পুড়ছে! সাঁওতালদের বাড়ি পুড়লো!
কিছু মানুষ ছন্নহারা হলো, কিছু মানুষ পুড়ে মরলো!
শুধু কি ঘর-বাড়ি পুড়ছে? শুধু কি মানুষ পুড়ছে?
পুড়ছে না বিবেক? পুড়ছে না মানবতা?
আর যে ধর্মের লম্বা- চওড়া অবয়ব

সেই বিশাল ধরাচুড়ার কোথাও আগুনের আঁচ লাগছে না?
তাহলে মানুষ কেন ধর্মের কথা বলবে! কি অধিকার আছে
তাদের ধর্ম নিয়ে বড় বড় কথা বলার!
ধর্মের কথা বলবে কুকুর,বিড়াল

যাদের প্রভুভক্তি, বিশ্বস্ততা অনুকরনীয়।

বলবে পিপিলিকা, কাক, যাদের দলবদ্ধতা স্মরণ যোগ্য,

প্রকৃতির যাবতীয় প্রানী একটা চেইন অব সিস্টেম মেনে চলে।

সেটা তাদের ধর্ম।

তারা বলবে ধর্মের কথা।
আমরা ধর্মের বড় বড় কথা বলি; আমরা মানুষ
বিবেকের ধ্বজাধারী, আশরাফুল মখলুকাতের সার্টিফিকেট
আমাদের গলায় ঝোলানো,

মগজে বুদ্ধিমত্তার ভাজ ভাজে অহংকার

আমরা প্রকাশ্যে পিটিয়ে মানুষ মারি,

বিশ্বজিৎ এর গলায় চাপাতির কোপ বসাই!

দুই বছরের শিশু ধর্ষণ করে হত্যা করি!

কিশোরী, যুবতী, বয়স্কা নারীদের ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হই না,
নৃশংসভাবে হত্যা করি।

স্তন কেটে, যৌনাঙ্গে এসিড ঢেলে আমরা হোলি খেলা করি।
আমরা ভুলে যাই, মানুষ পোড়া গন্ধ, ঘর পোড়া আগুনের ধোয়া,
সংসার, সম্ভ্রম হারানোর কান্না, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান
সবারই একই রকম।
আগুন জ্বলছে গঙ্গাচড়ায়, আগুন জ্বলে ঋষি পল্লী
সাঁওতাল পল্লীতে, মানবতার বানী এখন আর নিভৃতে কাঁদে না,
আকাশ ফাটিয়ে চিৎকার করে কাঁদলেও রাষ্ট্র এবং ধর্মের
ধ্বজাধারীদের টনক নড়ে না। তারা মুখে পান চিবিয়ে তৃপ্তির
ঢেঁকুর তোলেন! অতি সব জ্ঞানী, গুনী, ধনী, বিজ্ঞজনেরা দু-চার
কলম লিখে ঘুমিয়ে পড়েন।
জ্বলছে জ্বলুক—-
পুড়ছে পুড়ুক—
মরছে মরুক—
আমি ভালো আছি।

 

LEAVE A REPLY