বিসিএস প্রিলি: কোয়ালিফাইং নাম্বার এবং লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

বেশ কয়েকদিন হলো ৩৮তম প্রিলি হয়েছে। প্রিলিতে কোয়ালিফাইং নাম্বার নিয়ে অগণিত মেসেজ আসছে। প্রথম কিছু উত্তর করেছি, এর পরে আর সম্ভব হয় নি। কোয়ালিফাইং নাম্বার নিয়ে একবাক্যে বললে – যারা ১০০ পাবেন তাদের উচিত হবে রিটেনের প্রিপারেশন নেয়া বাকিটা ভাগ্য।

যত সহজ প্রশ্নই হোক, যেখানে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫ নাম্বার কাটা যায়, সেখানে শেষ পর্যন্ত প্রতি বিসিএসেই প্রিলির কোয়ালিফাইং নাম্বার ১০০ এর আশে পাশেই থাকে, প্রশ্ন একটু কঠিন হলে ৮০-৯০ তে নেমে যায়। তবে সরকারী চাকরীর প্রতি মেধাবীদের আকর্ষণ নিঃসন্দেহে বাড়ছে, ৩৮-তম তে রেকর্ড চার লাখের কাছাকাছি আবেদনকারী। তাই কমপিটিশান বাড়ছে। এতে প্রিলির কোয়ালিফাইং নাম্বার দিনে দিনে উপরে যাবে। আর কতজনকে পিএসসি রিটেনের জন্য কোয়ালিফাই করাবে, সেটা তো এই মুহূর্তে কেউ জানে না। তাই যে যা বলবে সবই আন্দাজে বলতে হবে। সেজন্য নিরাপদ হচ্ছে – ১০০ এর কাছাকাছি পেলে রিটেনের প্রিপারেশান নিন। ভাবনা আর দুশ্চিন্তা আসবেই, তবে চিন্তা নিয়ে বসে না থেকে কাজ শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই প্রিলি যেরকমই হয়েছে পরবর্তী একশান প্লান নিয়ে বসুন।

লিখিত প্রিপারেশান 
বিসিএসের জন্য লিখিত পরীক্ষাই হলো সেই স্টেপ, যেটিকে আপনি চাইলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। প্রিলি ভীষণ রিস্কি, আর ভাইভা অনেকটাই ভাগ্যের হাতে। তাই লিখিত পরীক্ষাকেই টার্গেট করতে হয়। এখানে যারা প্রথম দিকে থাকে, তারাই সফল হয়। পছন্দের ক্যাডার পেতে হলে আপনাকে একেবারে ১ম দিকে থাকতে হবে। অন্যদের পেছনে ফেলতে হবে। সেজন্য মূলমন্ত্র হলো – অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যাবার পথগুলো খুঁজে বের করা। সেজন্য –

১। প্রতিটা সাবজেক্টে নাম্বার বাড়ানোর জন্য প্লান করুন। সাবজেক্ট অনুযায়ী আলাদা আলাদা প্লান লিখে ফেলুন। যারা রিটেন দিচ্ছে, তারা সবাই ভালো, একটা মিনিমাম এভারেজ নাম্বার সবাই পাবে। কিন্তু চেষ্টা করলে প্রতি বিষয়ে এভারেজ নাম্বারের চেয়ে ৫-১০ এমনকি ২০ নাম্বারও বাড়ানো সম্ভব। সেজন্য বিষয় ধরে ধরে প্লান করে সেটা বাস্তবায়ন করুন।
২। রিটেনের উত্তরপত্র দেখবেন ঐ বিষয়ের কোন শিক্ষক। তো আমার স্ট্রাটেজি হল – উত্তরে এমন কিছু থাকতে হবে যেন শিক্ষক মনে করেন, এটা তাঁর সাবজেক্টের কোন স্টুডেন্টের খাতা। মানে খাতা দেখে বাংলার শিক্ষক ভাববেন -এতো বাংলার স্টুডেন্ট, ইংরেজির শিক্ষক ভাববেন –এ যে ইংরেজীর স্টুডেন্ট, আবার বিজ্ঞানের শিক্ষকও ভাববেন –এ বিজ্ঞানের স্টুডেন্ট না হয়ে যায় না। এই ধারনা যেই বিষয়ের শিক্ষককে দিতে পারবেন, অবশ্যই আপনি সেই বিষয়ে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যাবেন। তো ভাবছেন যে, এতো ভয়ানক কঠিন কাজ!! সব সাবজেক্টে এটা করতে হলে তো এরিস্টোটল হওয়া লাগবে! না লাগবে না। আপনি মিস্টার সুমন বা মিজ সুমনা হয়েই প্রতিটি সাবজেক্টে এটা করতে পারবেন।

৩।  প্রতিটি বিষয়ের একটি করে গাইড (নতুন/পুরাতন গাইড, যে কোন প্রকাশনী) নিয়ে বসুন। প্রতিটই বিষয়ে সিলেবাস ভালো করে দেখুন আর গত ১০টা বিসিএসের রিটেন প্রশ্ন ভালো করে এনালাইসিস করুন। এটা অবশ্যই নিজে করবেন। তাতে কোনটি আপনার স্ট্রেংথ আর কোথায় উইকনেস সেটি ক্লিয়ার হবে।
৪।  প্রতিটি বিষয়ে কিছু সলিড নাম্বারের জিনিস থাকে। যেমন ম্যাথ, গ্রামার, সংবিধান, বিজ্ঞানের কিছু জিনিস। আমরা ছোট বেলায় এগুলোকে বলতাম ছাক্কা নাম্বার। প্রথমে সেই ছাক্কা নাম্বারকে টার্গেট করুন। এই জায়গায় আপনি কারো থেকে পেছাবেন না, সেটা হলো টার্গেট। এই ছাক্কা নাম্বারগুলোর জন্য বাজারের কয়েকটা গাইড দেখতে পারেন, কয়েকটা থেকে ফটোকপি করে একত্র করে নিন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইন্টারনেট থেকে লেটেস্ট তথ্য লিখে নিন।
৫। এরপর বড় প্রশ্ন বা এনালাইটিক্যাল প্রশ্ন। এজন্য তিনটি বিষয়ঃ
(i) ভাষা বা উপস্থাপন (বাংলা এবং ইংরেজির জন্য সাহিত্যিক ভাষা অত্যন্ত জরুরী) (ii) তথ্য (ডেটা, কোটেশন, সংজ্ঞা, মনিষীদের উদাহরণ, রিপোর্ট, সংবিধানের আর্টিকেল, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে টেকনিকাল শব্দ ও চিত্র) (iii) প্রশ্নের একেবারে প্রাসঙ্গিক উত্তর।
এই তিনটি বিষয় দিয়ে এমনভাবে প্লান করুন যেন খাতা দেখে শিক্ষক ভাববেন – এতো আমার সাবজেক্টের স্টুডেন্ট। এই কাজটি করতে চেষ্টা লাগবে এবং চেষ্টা করলে অবশ্যই সম্ভব। এটা যেই সাবজেক্টে করতে পারবেন, সেই সাবজেক্টে আপনি অবশ্যই এগিয়ে যাবেন।
৬।  বাংলা, ইংরেজি, আন্তর্জাতিক, বাংলাদেশ এসব বিষয়ে যেসব বড় বড় প্রশ্ন বা রচনা থাকে, সেগুলোকে হেলাফেলা করবেন না। এগুলো নিয়ে আমরা নাক সিটকাই, এভাবে কি মেধা যাচাই হয়! কিন্তু সত্য হচ্ছে – পৃথিবীর সকল দেশের পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষায় এনালাইটীক্যাল বড় বড় প্রশ্ন থাকে। ভাষাজ্ঞান আর এনালাইসিস করার যোগ্যতা যাচাই করার জন্য এখনো মুক্তহাতে লেখার বিকল্প নেই। তাই এই বড় বড় প্রশ্ন বা রচনাকে গুরুত্ব দিন। মুখস্ত করার চেষ্টা করবেন না। টপিকটা বুঝে নিন, প্রথম বার রিডিং দিয়ে গাইডে দাগ দিয়ে ফেলুন। আর কিছু কিছু তথ্য লিখে ফেলুন। এগুলো মিলিয়ে নিজের মতো করেই উত্তর করতে হয়।
৭।  ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং (বাংলা এবং ইংরেজি) খুব জরুরী। ফ্রি হ্যান্ডে শুদ্ধ ইংরেজি লিখতে পারতে হবে। আর বাংলার ভাষাটা একটু ভালো হতে হবে।
সব সাবজেক্টের জন্য জেনারেল কথা এটাই। এরপর বিষয়ভিত্তিক লিখব।

অগ্রজের অগ্রিম শুভকামনা
-সুজন দেবনাথ: ২৮-তম বিসিএস পররাষ্ট্র ( ৩য় )  

LEAVE A REPLY