যশোরে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

শনিবারের শীতের সকালটি যেন অন্যরকম ছিল। ঘুম থেকে উঠেই স্মৃতি স্তম্ভ-বিজয় স্তম্ভের পথে রওনা। হাতে ফুল; পোশাকে লাল-সবুজের প্রাধান্য। ৪৬ বছর আগে এই দিনটির জন্য যারা জীবন দিয়েছিলেন তাদের শ্রদ্ধা জানাতেই সকালের এই ব্যস্ততা। বিজয়ের ৪৬তম বার্ষিকীতে একাত্তরের রণাঙ্গনে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। বিজয়ের বীর সৈনিকদের শ্রদ্ধা ও তাদের রক্ত-সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাওয়া দেশকে ভালবাসতেই নতুন এ প্রজন্ম এমন কর্মসূচির আয়োজন করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গঠনের শপথের মধ্যে দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করে সব শ্রেণি পেশার মানুষ। যশোরের জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পালন করে বিভিন্ন কর্মসূচি। যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ। শহরে বের করা হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এদেশের দামাল ছেলেরা পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে ছিনিয়ে আনেন লাল-সবুজ পতাকা। পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র-বাংলাদেশ। ৪৬ বছর আগের সেই দিবসটিকে স্মরণ করে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলার সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮টায় শহীদদের স্মরণে বিজয়স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিনের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ, প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগ, চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলের নেতৃত্বে যশোর জেলা পরিষদ, মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর নেতৃত্বে যশোর পৌরসভা, খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে জেলা বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদের নেতৃত্বে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি, সভাপতি রবিউল আলম ও সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার রায়ের নেতৃত্বে জেলা জাসদ। এছাড়াও যশোর মেডিকেল কলেজ, এমএম কলেজ, সিটি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, যশোর শিক্ষা বোর্ড, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিএমএ যশোর, ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশন, যশোর ইনস্টিটিউট, যশোর স্বাচিপ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন, যশোর জেলা যুবলীগ, যশোর জেলা মহিলা লীগ, যশোর জেলা যুবমহিলা লীগ, যশোর জেলা শ্রমিকলীগ, যশোর জেলা ছাত্রলীগ, যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার, যশোর জিলা স্কুল, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোর, দৈনিক লোকসমাজ পরিবার, দৈনিক স্পন্দন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, জেলা কমিউনিস্ট পার্টি, যশোর মটর পার্টস ব্যবসায়ী মালিক সমিতি, ভোরের সাথী, যশোর পৌরসভা, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, যশোর গণসংহতি আন্দোলন, বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ, যশোর শিল্পকলা একাডেমি, যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি, যশোর জেলা মহিলা পরিষদ, যশোর জেলা যুবদল, যশোর জেলা ছাত্রদল, নগর ছাত্রদল, জনউদ্যোগ, পুনশ্চ, চাঁদের হাট, বিবর্তন যশোর, স্পন্দন, শেকড়, সুরবিতান, সুরধুনী, যশোর কলেজ, উপশহর মহিলা কলেজ, জাগপা, বাসদ, জাতীয় পার্টি, সনাতম ধর্ম, উলাসী সৃজনী সংঘ, ব্যুরো বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন।

এসময় মুক্তিযদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার শপথ বাক্য পাঠ করান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। শপথ বাক্য পাঠ করানোর সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার, সহ-সভাপতি অ্যাড. জহুর আহম্মেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলী রায়হান, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন, যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের, প্রচার সম্পাদক মুজিবুদ্দৌলাহ সরদার কনক, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু, পৌরসভার কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মনি চাকলাদার, জেলা আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক জিয়াউল হাসান হ্যাপী, সদস্য শাহারুল ইসলাম, মশিয়ার রহমান সাগর, কাজী আলমগীর আলম, শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান লাল, যশোর জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী, সহসভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান, প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলন, সদর শাখার সাবেক সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান বাবলু, যশোর জেলা যুবমহিলা লীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী, সাধারণ সম্পাদক শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, কাউন্সিলর নাসিমা আক্তার জলি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, বর্তমান সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল আহম্দে জিসানসহ আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে শুরু হয় মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে। এতে যশোরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন। জেলা সিভিল সার্জন অফিসে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণন। জেলার বিভিন্ন সিনেমা হলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। টাউন হল ময়দানে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেয় জেলা প্রশাসন। যশোর শিশু একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা। বিকালে যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রবীণদের হাঁটা প্রতিযোগিতা এবং জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা নাগরিক একাদশের মধ্যকার প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। সিটি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় টি২০ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। বিজয় দিবসের সন্ধ্যায় যশোর টাউন হল ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় ‘সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির সার্বজনীন ব্যবহার এবং মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক আলোচনা সভা।

 

SHARE

LEAVE A REPLY