আপওয়ার্কে সফল হতে হলে !

upworkআপওয়ার্ক পৃথিবীর সব থেকে বড় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। আপওয়ার্ক আগে ওডেস্ক নামে ছিলো ২০১৩ সালে  ইল্যান্স এর সাথে একসাথে হয়েছে ওডেস্ক থেকে হয়েছে আপওয়ার্ক।  আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার হন তাহলে আর আপওয়ার্ক এ কাজ করতে চান তাহলে আপনার সাফল্য নির্ভর করবে আপনার প্রোফাইলের উপর ।  আর  বায়ার পাওয়ার জন্য দরকার চমৎকার একটা প্রোফাইল তৈরি করা। যারা আপওয়ার্কে কাজ করে সফল হতে চান তাদের জন্য সুন্দর ও আকর্ষনীয় প্রোফাইল তৈরী করার  কিছু টিপস দেওয়া হল ।

আপনি যে কাজগুলা ভালো করে জানেন সেগুলা ই প্রোফাইল এ দেন। জানা আর ভালো করে জানার মধ্যে কিন্তু পার্থক্য আছে। আপনি যখন আপনার প্রোফাইল সাজাবেন তখন আপনি আপনার মেইন সার্ভিস নির্বাচন করে আপনার একাউন্ট আপনার সোশ্যাল মিডিয়া সাইট এ লিঙ্ক করে দেন। যেমন ফেসবুক, লিঙ্কডিন, টুইটার, বিহান্স, গুগল প্লাস ইত্যাদি।তার কারন হচ্ছে এখন আপনার বায়ার হয়ত আপনার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আপনার প্রোফাইল দেখতে  পারে।

প্রোফেশনাল ফটো আপলোড করুন

ফটো হচ্ছে আপনার পরিচয়। আপনার ফটো আপনার প্রোফাইল এর বিশ্বাস যোগ্যতা তৈরি করে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম ছবি না দিয়ে আপনি আপনার নিজের ছবি দিলে বায়ার মনে করবে যে আপনি আপনার কাজের প্রতি সিরিয়াস এবং আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভবনা অনেক বেড়ে যাবে। এটা খেয়াল রাখবেন যে আপনার ছবিতে যেন প্রফেশনাল ভাব থাকে সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার।ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড যেন পরিষ্কার থাকে যেন আপনাকে ভালো করে বুঝা যায় ব্যাকগ্রাউন্ড না।
বুদ্ধি করে আপনার টাইটাল ঠিক করুন

যদিও এটা শুনতে অনেক সাদামাটা লাগছে কিন্তু প্রোফাইল এ আপনার টাইটাল খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। টাইটাল অবশ্যই নির্দিষ্ট, ছোট, সিম্পল এবং অবশ্যই বাস্তব কিছু। যেমন অনেকেই টাইটাল এরকম ভাবে দেয় “ Photo editing, Image retouching, background remove” এবং আরও বড় ও হয় অনেকের টাইটাল কিন্তু এটা তো টাইটাল তো টাইটাল হলো না এটা আপনার স্কিল এ দিতে পারেন যে আপনি কি কি কাজ করেন। এখানে আপনি টাইটাল দিত্রে পারেন “Photo editor” “Professional photo editor”  অথবা “Expert photo editor”। মনে রাখবেন এরকম মার্কেটপ্লেস এ হাজার হাজার প্রতিযোগী আছে যারা কাজের জন্য এক জন আরেক জনের সাথে প্রতিযোগিতা করছে তাই টাইটালটা বুঝে শুনে দেন। অনেক কিছু দেয়ার দরকার নাই, আপনি যে কাজটা ভালো করে জানেন সে কাজের উপর একটা টাইটাল দেন।

নিজের সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ওভারভিউ দেন

ওভারভিউ তে আপনি বায়ারকে আপনার সম্পর্কে বিস্তারিত একটা পরিষ্কার ধারনা দেন। মনে রাখবেন কপি পেস্ট না এখানে আপনার কথা আপনি লিখবেন আপনার ব্যাপারগুলা কিন্তু অন্য কারো সাথে মিলবে না।আর প্রধান বাপারগুলা প্রথমে দেয়ার চেস্টা করেন, কারন প্রথমেই যদি বায়ার ইন্টারেস্ট না পায় তাহলে পড়ে আর কিভাবে পড়বে আবার প্রথমে যা দিয়েছেন সেটা পড়লে বাকি শেষের দিকে আর না পড়লে সমস্যা নাই এইভাবে লিখুন। কি নির্দিষ্ট ভাবে লিখুন আপনার কাজের দক্ষতা, আপনার অভিজ্ঞতা, আপনার জানা ভাষা ইত্যাদি প্রথমে রাখতে চেস্টা করেন। আর এমন ভাবে লিখবেন যেন সেটা পড়ে খুব পরিষ্কার ভাবে বুঝা যায় যে আপনি কি করতে পারেন।আর ভাসা ভাসা কিছু না লিখে একদম নির্দিষ্ট করে লিখুন সব কিছু। এখানে আপনার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করার সুযোগ আছে সেটা কাজে লাগান কিন্তু সেটা যেন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস না হয়ে যায়।
আপনার পরিচিতিমূলক ভিডিও আপলোড করুন

ফ্রীলাঞ্চেররা সব থেকে বেশি যে কাজটা গুরুত্ব দেয় না সেটা হচ্ছে ভিডিও প্রোফাইল তৈরি করা। এখানে আগে ও বলা হয়েছে আপনাকে হাজার হাজার ফ্রীলাঞ্চের এর সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হবে তাই কোন সুযোগ ই আপনার বাদ দেয়া উচিত হবে না। আপনি ভিডিও বানালেন না কিন্তু অন্যরা বানাবে তখন আপনি পিছনে পড়ে গেলেন।ভিডিও পরিচিতি বায়ারের কাছে একটা বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে। বায়ার আপনার কথা বলার ধরন দেখে অনেক কিছু বুঝতে পারে। এ ক্ষেত্রে মনে রাখবেন ভিডিও এক মিনিট এর বেশি করবেন না কারন বড় ভিডিও বায়ার এর জন্য বোরিং হতে পারে।৫-১০ সেকেন্ড আপনি আপনার পরিচয় দিবেন, ১০-২০ সেকেন্ড আপনার কাজের উদ্দেশ্য তুলে ধরবেন, পরের ১০-২০ সেকেন্ড আপনার কাজের কথা তুলে ধরবেন আর ৫-১০ সেকেন্ডে এ উপসংহার টানবেন। এটা নিশ্চিত হয়ে নেন যে আপনি ভালো মানের ভিডিও করছেন আর আপনার কথা ও ভালো হচ্ছে। ভালো ভিডিও যদি বানাতে না পারেন তাহলে কিন্তু ফলাফল উল্টা ও হতে পারে। তাই সময় নেন। ইংলিশ ভালো জানে এরকম কারো কাছ থেকে আপনি কি বলবেন সেটি লেখিয়ে নিতে পারেন আর আপনি যদি ভালো ইংলিশ জানেন তাহলে তো হলো ই, ভিডিও করার আগে ভালো করে অনুশীলন করে নেন। ভালো ভিডিও বানান কাজে দিবে আশা করি।
স্কিল টেস্ট দেন

সেই স্কুল লাইফ থেকে তো আপনাদের বিভিন্ন রকম এর পরিক্ষা দিয়ে আসতে হচ্ছে, এখানে ও তাই, এখানে ও পরিক্ষা দিয়ে, সেখানে ভালো রেসাল্ট করতে পারলে সবাই আপনাকে বলবে আপনি ভালো জানেন।যে পরিক্ষাগুলা আপনার স্কিল এর সাথে সম্পর্কিত সেই টেস্ট গুলা দেন।ভালো রেসাল্ট করলে অনেক ভালো হবে আপনার জন্য, বায়ার মনে করবে আপনি কাজটা খুব ভালো বানে ই জানেন। কিন্তু এখানে আপনার বিষয় এর বাইরে পরিক্ষা দিয়ে প্রোফাইল এ দেয়ার কোন দরকার নাই। আর একবার যদি ভালো রেসাল্ট না ও করেন সমস্যা নাই এক মাস পর ঠিক সেই পরিক্ষা আপনি আবার দিতে পারবেন।
আপনার কাজের স্কিল যোগ করুন

আপনি যে কাজগুলা ভালো পারেন সেটা আপনার স্কিল এ যোগ করুন। এটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ আপনার প্রোফাইল এর জন্য। আপনি ম্যাক্সিমাম ১০টা এবং মিনিমাম ৫টা স্কিল এখানে দিতে পারবেন।এখানে ও বলবো আপনি যে কাজগুলা জানেন সেগুলি ই দেন। বেশি দেয়ার দরকার নাই। বেশি দিলে ই আপনি কাজ পাবেন এরকম ভাবার দরকার নাই।আর সেগুলি অবশ্যই আপনার জব টাইটাল এর সাথে মিল রেখে দিতে হবে।

আপনার ভাষার দক্ষতা ঠিক করুন

এটা তো খুব ই গুরুত্বপূর্ণ সেটা বুঝতেই পারেন। যেহেতু আপওয়ার্ক এ বায়ারদের সাথে আপনার সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে সেহেতু যোগাযোগের জন্য ভাষার দক্ষতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।আর অন্যান্য সব জায়গার মত আপওয়ার্ক এ ও ইংলিশ এ যোগাযোগ করবে বায়ার আপনার সাথে।এখানে আপনি হয়ত অন্য কোন ভাষাতে অনেক দক্ষ কিন্তু তাতে আসলে খুব একটা বেশি কিছু আসে যায় না।আপনি এটা নির্বাচন করেন “Native or bilingual” অর্থাৎ আপনি খুবই দক্ষ এই ভাষাতে সেটা হয়ত দেখতে ভালো লাগবে কিন্তু এখানে আপনাকে সৎ থাকতে হবে আপনার নিজের জন্য ই। আপনি দিলেন আপনি ইংলিশ এ মনেক দক্ষ বায়ার সেটা দেখে আগ্রহী হলো, কথা বলতে চাইল আপনার সাথে দেখা গেল আপনি ওরকম দক্ষ না,তখন তো বায়ার আপনার প্রতি ভরসা করতে পারবে না। তাই যা দিবেন সঠিক ভাবে দেন।এমন না যে ওখানে সেরাটা না দিলে আপনি কাজ পাবেন না। আপনি যেটাতে ভালো সেটা দেন, আপনি যদি ভালো লিখে যোগাযোগ করতে পারেন সেটা দেন, আপনি যদি কথা বলে ভালো যোগাযোগ করতে পারেন সেটা দেন কিন্তু ভুল্টা দিয়েন না।

আপনার অভিজ্ঞতার লেভেল ঠিক মত সেট করুন

এটার মাধ্যমে বায়ারকে বুঝিয়ে দিতে হয় যে আপনার অভিজ্ঞতা কি রকম। এখানে ও যা দিবেন ঠিক মত দেন না হলে পড়ে সমস্যার তৈরি হতে পারে। আপওয়ার্ক এ ৩টি Experience level আছে।  “Entry level”এটা হচ্ছে আপনি মাত্র শিখার পর আপনার ক্যারিয়ার শুরু করেছেন সেটার জন্য। “Intermediate” এটা হচ্ছে আপনি কাজ করে কিছু বছর এর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, সেটা যে আপওয়ার্ক এ ই এরকম কিন্তু না, আপনি যে বিষয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন সে বিসয়ে।সেটা যেখানেই হোক।আর একটা আছে “Expert”এটা দিবেনআপনি যখন বিশ্বাস করবেন যে আপনি যে কাজটা পারেন সেটা খুব ভালো করে পারেন। যে কোন ধরন এর প্রোজেক্ট আপনি সফলতার সাথে করতে পারবেন সেটা যত কঠিন ই হোক না কেনো। আপনি যে লেভেল এ আছেন সেই লেভেল ই দেন বেশি করে কোন কিছু দেয়ার দরকার নাই।
আপনার সার্টিফিকেট শো করুন

আপনি যদি কোন থার্ড পার্টি থেকে কোন সার্টিফিকেট থেকে থাকে তাহলে সেটা শো করতে পারেন কিন্তু সেটাও কিন্তু আপনার বিষয়ের উপর হতে হবে।এটা অনেকটা স্কিল টেস্ট এর মত যে এটা থাকলে বায়ার এর সুবিধা হয় বুঝতে যে আপনি আপনার বিষয়ে কি রকম দক্ষ।

আপনার চাকুরীর বিস্তারিত দিন

আপনি যদি চাকুরি করে থাকেন তাহলে সেটা বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন। এখানে ও একই চাকুরি আপনার বিষয় এর উপর ই হতে হবে। এটা দেখে ও বায়ার বুঝতে পারে যে আপনি যেহেতু চাকুরি করেছেন তার মানে বিভিন্ন প্রোজেক্ট এ কাজ করতে হয়েছে আপনাকে,তার মানে আপনি তার প্রোজেক্ট ও সফল ভাবে করতে পারবেন।

আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা দিন

আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার দেয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার প্রোফাইলকে আরও অনেক বেশি সমৃদ্ধ করতে পারেন। মনে রাখবেন খুব নির্দিষ্ট করে দেন, আপনার ইন্সটিটিউট এর নাম, আপনার ডিগ্রির নাম আপনার সদ্য শেষ করা ডিগ্রি থেকে শুরু করেন।
আপনার পোর্টফলিও সাজান

এটা একটু পড়ে আসলে ও এটা আপনার আপওয়ার্ক এর প্রোফাইল এর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। আপনার পোর্টফলিও মানে হচ্ছে আপনি বায়ারকে দেখাচ্ছেন আপনি এই পর্যন্ত কি কি অর্জন করেছেন, কি কি কাজ করেছেন, কিভাবে করেছেন, কতটুকু ভালো হয়েছে ইত্যাদি। এটার মাধ্যমে আপনি আপনার করা প্রোজেক্টগুলা তুলে ধরবেন, কিভাবে করেছেন সেটা লিখে দিবেন। এবং এগুলা দেখেই বায়ার একটা আইডিয়া পাবে আপনি কি ধরন এর কাজ করেছেন। পোর্টফলিও তে কাজ দেয়ার বেসিক নিয়ম হলো আপনার সেরা কাজগুলা আগে আসবে।আর আপনি যেটাতে খুব আত্তবিসসাসি না অথবা যে প্রোজেক্ট আপনি ঠিক মত শেষ করতে পারেন নাই সেগুলি দেয়ার ই দরকার নাই। এবং আপনার পোর্টফলিও আপনাকে নিয়মিত আপডেট করতে হবে, এক ই কাজ দিনের দিনের পর দিন রেখে দিলে বায়ার ভাববে আপনি হয়ত নতুন কোন কাজ করছেন না। তাই নতুন নতুন কাজ আপলোড করতে হবে।আর একটা ব্যাপার সেটা হচ্ছে আপনার পোর্টফলিও আপনার একটা গল্পের মতন। আপনার পোর্টফলিও বলবে কিভাবে আপনি আস্তে আস্তে এক্সপার্ট হচ্ছেন।এখন আপনি অনেক কঠিন কাজ ও সফল ভাবে শেষ করতে পারবেন। আর প্রোজেক্ট এর কথা যে বললাম সেটা যে কোন প্রোজেক্ট হতে পারে আপনার বিষয়ের উপর। লোকাল প্রোজেক্ট হতে পারে, ইন্টারন্যাশনাল প্রোজেক্ট হতে পারে, অন্য মার্কেটপ্লেস এর কাজ হতে পারে।আর আপনি যদি প্রথমেই আপ ওয়ার্ক এ শুরু করেন তাহলে নিজে নিজে কিছু প্রোজেক্ট করেন তারপর সেগুলা সাবমিট করেন।

SHARE