‘নীল বোতামে’ অশনিসংকেত

bluuসমুদ্র উপকূলে প্রথমবারের মতো দেখা গেছে সামুদ্রিক প্রাণী ‘নীল বোতাম’ বা ‘Blue Button’ তার রং উজ্জ্বল নীল। দেখতে বোতামের মতো। আড়াই বছর আগে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন উপকূলে সাগরের উপরিভাগে এই প্রাণীটিকে প্রথম ভেসে থাকতে দেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে হঠাৎ এই প্রাণীর উপস্থিতিকে অশনিসংকেত বলে মনে করছেন সমুদ্রবিজ্ঞানীরা।

কেন এই প্রাণীর দেখা পাওয়া অশনিসংকেত ?

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম নির্ণায়ক হচ্ছে নীল বোতাম। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে এ প্রাণীর উপস্থিতিই বলে দিচ্ছে এখানকার সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ছে। এটি ভাবনার বিষয়। পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে হাইড্রোজোয়া প্রজাতির এই প্রাণীর উপস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সমুদ্রবিজ্ঞানীরা জানান, নীল বোতামের উপস্থিতি বলে দিচ্ছে, সেন্ট মার্টিন উপকূলে তাপমাত্রা বাড়ছে। তাপমাত্রা বাড়লে প্রবাল দ্বীপের ক্ষতি হতে পারে, মাছও কমে যেতে পারে। এতে জেলেদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। মৎস্য খাতে রপ্তানি আয় কমে যাবে। তাপমাত্রা বাড়লে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে। তখন জোয়ারের সময় উপকূলীয় এলাকাগুলো নিয়মিত প্লাবিত হবে।

২০১৪ সালের মার্চ মাসে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে গিয়ে প্রথম নীল বোতামের সন্ধান পান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের গবেষকেরা। এ প্রাণীর নমুনা সংগ্রহের পর ইনস্টিটিউটের গবেষণাগারে নিবিড় শারীরবৃত্তীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এরপর গবেষকেরা বাংলাদেশ উপকূলে এই প্রজাতির প্রাণীর উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হন। চলতি বছরের জুন মাসে জার্মানভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা ‘স্প্রিঙ্গার’-এর ওশান সায়েন্স জার্নালের ৫১ (২) সংখ্যায় এ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।

গবেষক দলের সমন্বয়ক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের প্রভাষক মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরী। গবেষণা সহযোগিতা করেন একই ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রাশেদ-উন-নবী, সাইদুর রহমান চৌধুরী, মো. শাহাদাত হোসেন ও সহযোগী অধ্যাপক এস এম শরীফুজ্জামান।

সমুদ্র গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে পাঁচ প্রজাতির হাইড্রোজোয়াসহ ২১ প্রজাতির নিডারিয়া পর্বের প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে। নীল বোতাম হাইড্রোজোয়া প্রজাতির প্রাণী। দক্ষিণ-পশ্চিম তীব্র মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং সমুদ্রের পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধির সঙ্গে এই প্রাণীর উপস্থিতির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। বেশি সংখ্যায় এই প্রাণীর উপস্থিতি সামুদ্রিক খাদ্যচক্র ও জলজ জীববৈচিত্র্য প্রভাবিত করতে পারে। এ প্রাণীটির নমুনা যখন সংগ্রহ করা হয়, তখন সেন্ট মার্টিন উপকূলে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

SHARE