চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অন্য বাংলাদেশকে দেখা যাবে : বাশার

বাংলাদেশ সর্বশেষ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলেছে ২০০৬ সালে। এরপর আরও দুটি টুর্নামেন্ট হলেও বাংলাদেশ খেলার সুযোগ পায়নি। সেই হতাশা দূর করে এবার সরাসরি আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বললেন, সরাসরি আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জায়গা করে নেওয়াটা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় এক পদক্ষেপ।

বাংলাদেশের ক্রিকেট যে দিনে দিনে উন্নতি করছে, এটা তারই প্রমাণ। ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সরাসরি জায়গা করে নেওয়াটা তো বাংলাদেশের ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে উন্নতিরই ফসল। র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৮টি দল সরাসরি ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সুযোগ পাবে-আইসিসির এই নিয়মের বেড়া ডিঙিয়েই বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে আগামী জুনে ইংল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকার কারণে যে টুর্নামেন্টে খেলার ছাড়পত্র পায়নি দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং ২০০৪ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ!

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সরাসরি জায়গা করে নেওয়াটা অবশ্যই বড় অর্জন। হাবিবুল বাশারও বললেন সেটাই, ‘এ বছরের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সরাসরি জায়গা করে নেওয়াটা নিশ্চিতভাবেই আমাদের দেশের জন্য বড় এক পদক্ষেপ।  একই সঙ্গে এটা দলের জন্যও সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ আগামী ১ জুন থেকে ইংল্যান্ডে বসতে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সপ্তম আসর। ইংল্যান্ডের এই টুর্নামেন্টে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির শুভেচ্ছা দূতও হাবিবুল বাশার। ২০০৬ সালে নিজেদের সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কও ছিলেন বাশারই। ফলে বাশারের সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বড় একটা যোগসূত্রই আছে।

গত কয়েক বছর ধরেই ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ দারুণ খেলছে। সিরিজ জিতেছে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলেল বিপক্ষে। তবে সেসবই নিজেদের মাটিতে। তবে বাশার মনে করেন, এখন থেকে বিদেশের মাটিতেও ভালো করতে বাংলাদেশ। বাশারের প্রত্যাশা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও ভালো করবে বাংলাদেশ, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য আমরা গত দুই বছর ধরে পরিকল্পনা করেছি। ঘরের মাঠের বাইরে আমরা খুব বেশি সাফল্য পাইনি। তবে এখন আমরা প্রস্তুত। আমরা অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৫ বিশ্বকাপে (২০১৫ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় আসলে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায়) ভালো খেলেছি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজটিও আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাসী করেছে।’

বাশার সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘এই টুর্নামেন্টের জন্য আলাদাভাবে পরিকল্পনা করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আয়ারল্যান্ডে একটি ত্রিদেশিয় সিরিজ খেলতে যাচ্ছি। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের মানিতে নিতে এটা আমাদের অনেক সাহায্য করবে। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আপনি ভিন্ন এক বাংলাদেশকেই দেখতে পাবেন।’

২০০৬ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতলেও শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে বাছাইপর্ব থেকেই ছিটকে পড়ে হাবিবুল বাশারের বাংলাদেশ। তবে বাশার বললেন, ২০০৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অভিজ্ঞতাই ছিল ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাফল্যের বড় নিয়ামক।

SHARE