কবি ভাস্কর সেন’র দুইটি কবিতা

ইউটোপিয়া

তুমি আমাকে শেখাও ভালোবাসা,
আর আমি তোমাকে দেখাই জীবন।
আহত অসংখ্য কঙ্কালের জলন্ত
মৌন মিছিল,
দুপশলা বৃষ্টির জন্য যে চাতক অপেক্ষা
করে বছরের পর বছর,
তোমাকে দেখিয়েছি শতাব্দী প্রাচীন
বর্ষণ রাত,
অপরূপ ধ্বংসের বিস্ময়কর ছবি।

তুমি শোনাতে ইউটোপিয়ার গল্প,
পৃথিবীর সমস্ত পুরুষের প্রেমিক হয়ে
ওঠার গল্প।
আর্য পুরুষের বুকে পারিজাত গাছ রোপণ
করেছিল যে দ্রাবিড় কন্যাটি,
রৌদ্রস্নাত সকাল বসন্তের ভোর…
হারিয়ে যেতাম ভাবনার গভীরে।

তোমাকে এখনো শোনাইনি কুমারী মেয়েটির
ধর্ষিতা হয়ে ওঠার গল্প,
ব্যর্থ দিনলিপিকে ভেঙ্গে যে নারী সূর্যকে
বুকে রাখে
সে আমার মা,সে আমার বোন, চির শ্রদ্ধার দেবী
আমার ইউটোপিয়া।

 

অবাধ্য কবিতারা

তোমার পায়ের কাছে বৃষ্টি নামলে ফুলের মতো
সহজ হয়ে যায় ভাষা।
ভূগোলের শান্ত মানচিত্রে অজস্র জোনাকি বলে
গেছে অবাধ ভালোবাসার কথা।
অথচ আমার লেখার কথা ছিল মায়াবী রাতের
ইতিহাস।
কাঁচ ফোঁটার অলৌকিক জলে নক্ষত্র পড়ার শব্দ।
স্বপ্নরাজ্য ঘরবাড়ি আরো কতো কি!
আমাকে চেনেনা এমন কোনো দুরন্ত ঝঞ্ঝা নেই,
আমাকে বোঝেনা এমন কোনো অবাধ্য রাত নেই।
তবুও আমার কক্ষপথ থেকে পৃথিবী সরে গেছে
বহুদূরে।
শেষ রাতে রূপোলী জোৎস্নার আলোরেখায়,
জেগে থাকে দোয়াতের কালি আর কবিতার খাতা।
আমাকে গ্রাস করে ওরা প্রতিনিয়ত শিরায় শিরায়,
আধভেজা ঘুম থেকে জেগে ওঠা কোনো এক স্নিগ্ধ
ভোরবেলায়।

SHARE