কবি সাঈফ ফাতেউর রহমানের দুইটি কবিতা

জানাও আকাঙ্খা তোমার

চাইলেই আকাশ থেকে অঝোর বৃষ্টি নামাতে পারি,
চাইলেই মাঘি পূর্ণিমার আলোর জোয়ারে ভাসাতে পারি
চাইলেই হেমন্তের কুয়াশায় নবান্নের ঘ্রাণে ভরা আঙ্গিনা আনতে পারি
চাইলেই নিশ্চিত শরতের কাশফুলে সাজিয়ে দিতে পারি সকল নদীতীর।

অনেক কিছুই পারা সম্ভব, পারা যায়,
তোমার মুখের ফুল্ল সুহাস দেখে সব পারা যায়
তোমার ইচ্ছে পূরণের জন্য ভূগোলের এপার ওপার করা যায়
তোমার স্বপ্ন আকাঙ্খা পূরণে নিশ্চিতই সর্বজয়ী জিতেন্দ্রীয় হওয়া যায়।

কেবল তোমার ইচ্ছের স্ফুটন প্রয়োজন
কিঞ্চিৎ সবাক হোক ইচ্ছে-ফুলেরা তোমার
নাহয় চোখের ভাষা দিয়েই ব্যক্ত হোক অভিলাষ
দেখো ত্রিভূবন তোলপাড় করে ছুটবে স্বপ্ন-জয়ের নাও।

রোদ চাও আলো চাও
সবুজ শ্যামল-সম্ভার চাও
পেঁজা-তুলা মেঘেদের ক্রীড়া চাও
প্রকৃতি জীবনের যেকোন অনুষঙ্গ চাও, প্রতিশ্রুত আমি, তুমি তা পাবেই।

কেবল আমাকে বলো, জানাও আকাঙ্খা তোমার
উচ্চারণে ব্যক্ত না-করো, চোখের কপালের হাতের মুদ্রায় জানাও
এইযে, আভূমি প্রণত অপেক্ষায় আমি, আমাকে জানতে দাও, বুঝতে দাও
সক্ষমতা অর্জন করবো আমি, ব্যর্থতা স্পর্শ করবেনা আমাকে, জেনো নিশ্চিত।

 

 

হীরকের চেয়ে শ্রেয়তর হোক মানব মহিমা

হীরা দিয়ে কাঁচ কাটা যায়,
হীরা দিয়ে হীরা কাটা যায়
হীরার অধিকার আয়ত্বে নিতে যুগে যুগে অসংখ্য মানুষের প্রাণ যায়
যুদ্ধের দাবানলে পুড়ে সভ্যতা বিপর্যস্ত হয়ে যায়, মানবতা কাঁদে লাঞ্ছনায়
মহার্ঘ হীরা হাত বদল হতে হতে স্থানান্তরে অবশেষে যাদুঘরে স্থান পায়।

আয়ত্বে যার হীরা-মাণিক্য
সেতো স্থূলতর কর্ম-পন্ডশ্রমে অপচয় করবেনা সময়ের!
হীরক ঔজ্জ্বল্যে আলোকিত করে দেওয়া যেতে পারে চারধার
স্থূলতর কর্ম অপব্যয় অথবা জীবন-সংহারী কাজে হিরক ব্যবহৃত হবে কেনো!

হীরক-উচ্চতায় আসীন হওয়ার স্বপ্ন জ্বলবে যার চোখে
অপার সে দীপ্তিময়তায় সময়কে ম্লান করে দিতে পারে হীরক-ঔজ্জ্বল্য
এমন বিভার সম্ভার যার, সে কেবলই অঋদ্ধ কর্মে অপচয়িত হবে কেন!
বিশ্বাস্য বা বিচার্য হতে পারেনা হীরকের এমন হতদৈন্য অপব্যবহার কোনভাবে কিছুতেই।

মহিমান্বিত যা, তার মহিমাকে অবহেলে বা অজ্ঞতায়
বুঝে, না-বুঝে হেলাফেলা করা চলবেনা
হীরক থাকবে হীরকের মত রাজেদ্র মহিমায় সমাসীন
স্পর্শেরও নাগালের বাইরেই অবস্থিতি।

আয়ত্বের বাইরে থাক হীরক-মহিমা
সাধারণের অগম্য-অস্পর্শ যখোন, হীরক নির্বাসিত থাক
প্রভাময়তায় আলোক-বিচ্ছুরিত যদি হয়, হোক
দীপ্তিমানতার গমনাগমন-তো আর নিয়ন্ত্রিত থাকবেনা!

হীরকের যোগ্যতর বিকল্প হয়ে গড়ে উঠবে সহস্র-লক্ষ-কোটি-অগনন মানব-মহিমা
আলোক ছড়াবে ত্রিভূবনে ভূগোলে ভূগোলোত্তর জানা-অজানা সকল ভূবনে-ভূবনোত্তরে
মানব-হীরক হবে জিতেন্দ্রীয় অপরাজেয় অভঙ্গ সত্ত্বার
সে-হীরক শোভনে-সুন্দরে-কল্যাণে-বিনোদনে হবে মানুষের একান্ত-লগ্ন সর্বোচ্চ মহার্ঘ্যতার।