কবি সাফিয়া খন্দকার রেখার তিনটি কবিতা

স্কিৎজোফ্রেনিয়া

মস্তিস্কের বার্ধক্য সময় এখন
মুহূর্তগুলো অসুস্থ
সুস্থ হৃদপিণ্ড নেই।
প্রত্যেক সূর্যাস্তের সাথে ক্ষয়ে যাই।
উন্নত জীবনের স্বপ্ন
জমা থাকুক তোমার কাছে
প্রেম
বিশ্বাস
সময়
অতঃপর
তোমার মস্তিস্কে জমানো সময়গুলো
শরীরের ভেতর,
তোমার জ্যোতির্ময় চোখ
কম্পমান ঠোঁট
সমস্ত পিপাসা
মরে পরে থাকবে
ফাঁকা
মুঠোফোনের স্ক্রিনে।
ঠিক তখনি
একটি বইয়ের প্রচ্ছদ,
নাম, অক্ষর ছুঁয়ে
তুমি অনুভব করবে সময়
অক্ষরগুলো কথা বলে উঠবে।
তুমি বিস্মিত হবে
তোমার আঙ্গুল
দু’ঠোঁটের বেষ্টনী
কাঁপতে থাকবে।
তুমি শিরায় শিরায়
প্রতিটি অণুতে
একটি নতুন লাইন খুঁজবে
গোপনে—
তোমার আক্রান্ত চোখ
পুড়ে যাবে প্রতীক্ষায়।
তোমার শ্বাস চাইবে
একটি অণু কবিতা অন্তত
ভেসে উঠুক মুঠোফোনে।
এভাবেই তুমি আক্রান্ত হবে
স্কিৎজোফ্রেনিয়ায়।
মনে থাকবে শুধু
একটি চেনা মুখ
যাকে তুমি আক্রান্ত করেছিলে
ভালোবাসা নামক স্কিৎজোফ্রেনিয়ায়—

 

 

আবেগী রোদ্দুর

ব্যাকুল বাঁচন মনে করিয়ে দেয়
প্রতিটি শব্দের গায়ে খসে পরা স্বপ্নের কথা।
বোধ বৃক্ষের জল সিঞ্চনে
কতটা ভুলের এ বাঁচন বুঝে নেয় মন।
বর্ণমালায় বন্দি্ হয়ে রয় স্বপ্নগুলো।
নিজস্ব ব্যাকুলতা বিষাদের বেহালায়,
শরীরে বেজে ওঠে আবেগী রোদ্দুর।
প্রতিটি ভোর নেমে আসে দূরের হাতছানিতে।
দুর্দান্ত ভালোবাসা কেবল তাকেই খোঁজে
শূন্যতায়
বাতাসে
অন্ধকারে…
প্রতীক্ষায়…

 

বৃষ্টি নামুক

মুহূর্তগুলো রাতজাগা পরিশ্রান্ত,
রোদ্দুরে পুড়ে যাচ্ছে স্মৃতির ক্যানভাস।
কত আগুনে পুড়ে খাঁটি হোল
শোনাবরণ শরীর,
লাশেরাও সুগন্ধি মেখে
দায়িত্ব পালন করে ঠিকঠাক।
পৃথিবী দেখে ছানিপড়া চোখে
সেই সব অধ্যায়।
বাবুই পাখিটা রোজ দিন
এঁকে দিয়ে যায় পাপ-চুম্বন।
শ্বাস-প্রশ্বাসের দমকা হাওয়ায়
শাবল চালিয়ে উড়ে যেতে যেতে
বলে যায় পাখিটা
এখন আমার বর্ণান্ধ সময়
ফের যদি বৃষ্টি নামে
জল ধার নিতে ফিরে আসবো…
তপ্ত সূর্য এখন তোমাকে পোড়াক।
পুড়ে পুড়ে যতটুকু ছাই
তুমি ততটুকুই আমার…