কুড়িগ্রামের তিন কবির কবিতা

ফারুক ফরায়েজি

স্বপ্নেরা বিভোর কান্নায়

 

ছানিপড়া চোখে অন্তহীন আকাশ দেখি

বিস্তৃত মনে নিষ্কৃতি পায়নি কালো মেঘ

সময়ের বেড়িবাঁধে হারিয়েছি জীবনের বেগ।

নব্যসম্প্রদায় ভেসে যায়, কালের বেগতিক ছলনায়

তারণ্যের দৈব্য শক্তি হারিয়েছে অ্যালকোহোলের বুদবুদ ফনায়

তরুণ-তরণীরা ঘুমহীন চোখেও

দেখতে পারেনি ভোরের সূর্যোদয়।

নষ্ট প্রাণের ভ্রষ্ট হওয়ার গল্প রাতের পৃথিবীকে বেষ্টনী পড়ায়।

মাটির মমতা চিরে, বন্ধন বিষাক্ত করে অথর্ব ইতরের রাস উৎসব

দেখে দেখে কখন যে ছানি পড়েছে চোখে

আজও দেখতে পাইনি পৃথিবীর রূপ।

সেই চোখে এখন কেমন সব অদ্ভুদ স্বপ্ন দেখি,

মৃত্যুদেবীর মত সংহার করি প্রাণ

মাংসাশী হিংস্র প্রাণীর মাঝে বিলিয়ে দেই ত্রাণ

তৃষিত মরুর বুকে রক্তের স্রোত স্বপ্নেরা বিভোর কান্নায়।

 

 

 

এ না ম  রা জু

আলাদা একটা জীবন আছে

আমার ভেতর আলাদা আরেকটি জীবন

আরেকটি প্রাণ, আরেকটি অধ্যায় যেনো বসবাস করে

সে অধ্যায় গিরগিটির মতো,

রঙিন-আলোহীন ধূপছায়ার মতো।

বহুরুপি হয়ে যায় আমি

সাহায্য করে পাপতাপ লুকাতে।আর-

সাহায্য করে পূর্ণবানের মুখোশ পরাতে।

সম্ভবত প্রতিটি প্রাণীর ভেতরই এমন এক

গিরগিটির বসবাস, বসবাস কলুষিত আত্মার-

যারা ঘোরাঘুরি করে, চলাফেরা করে

সাহায্য করে রঙ বদলাতে।

এসব থেকে বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টায়

আমি মানব হয়ে উঠি…

 

 

শি হা ব  স বু জ

ফিরে আসা

 

ফেরারি স্মৃতিগুলো আসে ফিরে

নীরব সাক্ষী সব নিভৃতে হাসে

স্বপ্নেরা এসে মৌনতা ভাঙ্গে

তাই ভাঙ্গা মনে জেগেছি আবার।

 

মনে কত কথা উঁকি দিয়ে যায়

ভেবে রাখা কথা অদৃশ্যে হারায়

হারিয়ে যাই তায় চিন্তার মোহনায়,

বৃষ্টিতে ভিজে কবিতা সব ছন্দ হারায়।

সৃষ্টিতে সুখ কাঁদে যেন অপূর্ণতায়,

প্রিয় চাওয়া পাওয়াগুলো আজও-

পরে আছে সব হিসেবের খাতায়।

হয়তো সময় হয়েছে তার

এবার ফিরে আসবার।

 

হয়তো ফিরে এসে সেদিন

দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে দেখবে-

একটি কফিন, আর কফিনের আমি

যাচ্ছি অজানা সমুদ্রের কোনো এক পাড়ে;

একা সংগোপনে…