খা দি জা তু ল কো ব রা’র গল্প ‘এতটা বুঝি তোমায়’

খা দি জা তু ল  কো ব রা
এতটা বুঝি তোমায়

রাত বারোটার কাটা শুভ্র-তিথিকে দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকীর কাছে পৌঁছে দেবে। কাউকে জানায়নি তিথি। শুভ্রকেও মনে করে দেয় নি। ব্যস্ততার মাঝে শুভ্র কতটা একটিভ, দেখতে চায় তিথি।

আকাশে ভরা চাঁদ, তারাদের লুকোচুরি খেলা আর ঝি ঝি পোকার শব্দ। সব মিলিয়ে পরিবেশটা মনোরম। কিছুটা হলেও মন খারাপ তিথির। বারান্দায় বসে চাঁদের মাঝে কী যেনো খুঁজতে থাকে সে।

বিকেল থেকে শুভ্র ফোন দেয় নি। তিথি কয়েকবার ফোন দিয়েছে। কিন্তু রিসিভ হয়নি। তারপর থেকে বাজে সময় পার করতে থাকে সে। জোছনায় তিথির মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু আজ হচ্ছে না। খুব একা একা লাগছে। পাশে শুভ্রকে পেলে দারুন হতো। কিন্তু ব্যস্ত শুভ্রর কি সে সময় হবে! তিথি ভেবে পায় না।

ব্যস্ততা মনের মানুষকেও দূরে ঠেলে দেয়। শুভ্রকে দিয়ে হাড়ে হাড়ে টের পায় তিথি। কিন্তু বিবাহ বার্ষিকী শুভ্র নিশ্চয় মনে রেখেছে। সময় করে সময়ের আগেই চলে আসবে। ভাবে আর নিজেকে সান্তনা দেয়। আবার প্রশ্নও জাগে- আসলেই সে যা ভাবছে, তা কি হবে ?

বারো দিন হলো বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছে তিথি। শুভ্রর খুব কাছাকাছি। অথচ সময় হয়নি তার। খোঁজ নেয়নি। মাঝেমধ্যে কল করে দু’একটি প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া কথা এগোয়নি বেশি দূর। রোমান্স বলতে সব হারিয়ে গেছে শুভ্রের। সে কি এই দিন মনে রেখেছে? কে জানে! হয়তো রেখেছে। তিথিকে দ্বিধান্বিত মনে হয়।

বিশেষ দিনটির কথা মনে থাকলে একবার ফোন করে বলতে পারতো। কিন্তু ফোনই রিসিভ করছে না। সে আর এতো রাতে আসবে?

তিথি চাঁদের আলোয় হাত ঘড়িতে তাকায়। এগারোটা বাজে। একটা কলও নেই! অন্তত আজকের দিনে এমনটা ঠিক হয়নি শুভ্রর। সব দিনের ব্যস্ততা মানা যায়। এদিনেরটাও মানতে হবে কেনো! নানান কথা ভাবতে ভাবতে ভাগ্যকে দুষতে থাকে তিথি । অভিমান হয়। অভিমান হলে তিথির রাগও বাড়ে। এই মূহুর্তে রাগ বাড়ছে। রাগ কমাতে হবে। তিথি সুখকর স্মৃতিগুলো ভাবতে থাকে। শুভ্রর সাথে সুখকর স্মৃতি। বেশ কিছু বিষয়ে স্বামী হিসাবে শুভ্রকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসিয়ে ছাড়ে।

শীত শীত লাগছে। জোছনা ভালো লাগলেও শীত সহ্য হচ্ছে না। মন না চাইলেও   বারান্দায় বসে চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে তিথি। হঠাৎ পিছন থেকে কে যেনো চোখ চেপে ধরলো। হাত  ছুঁয়ে  চেনার চেষ্টা করলো তিথি। কিন্তু বুঝতে পারলো না। অচেনা মনে হলো। চোখে চেপে থাকা হাতে ঘড়ি আবিষ্কার করলো। ছুঁয়ে দেখতেই চিনে নিলো সে। চরম সুখ বয়ে গেলো শরীরে, মনে। সারপ্রাইজে চঞ্চল হয়ে উঠতে চাইলো।

শুভ্র মনে রেখেছে। প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে তিথির দেয়া ঘড়ি হাতে চমকে দিয়েছে তাকে। ভুলে গেছে অভিনয় করেছে সারপ্রাইজ দেবে বলে। আর এই শুভ্রকেই মনে মনে কতো না কিছু বলেছে। নিজেকে অপরাধী মনে হলো তিথির।

নিজেকে সামলে নিয়ে কৃত্রিম অভিমানে বললো, ‘শুভ্র তুমি? আমি কি স্বপ্ন দেখছি ?

চোখটা ছেড়ে সামনে আসলো। আলতো বুকে টেনে শুভ্র বললো, ‘মহারানি! আপনি সত্যিই দেখছেন। বিশ্বাস না হলে চিমটি কেটে দেখতে পারেন।’

শুভ্রর ঘেমে নেয়ে থাকা বুকে মাথা গুজে উৎকন্ঠা নিয়ে বলে, ‘ হঠাৎ না বলে? গোলাগুলি হয়েছে শুনলাম। এর মধ্যে আসলে কীভাবে? পথে অসুবিধা হয় নি তো? তুমি যে আসছো, বলো নি কেন? ফোন ধরোনি কেন?

– মহারানী, একটু দমতো নাও। একবারে এত প্রশ্ন, কোনটার উত্তর দেবো, বলো?

অভিমানী সুরে তিথি বললো, স-ব ক’টির চাই।

-মহারানীর কাছে এ সব গোলাগুলি রাস্তার ধুলার মতোই মনে হয়েছে। সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম। চলে এলাম। ফোন ধরিনি, তাতে সারপ্রাইজের মজাটা থাকতো না। কিন্তু এই বিবাহবার্ষিকীতে তোমার জন্য যে কিছুই আনতে পারলাম না।

– কিচ্ছু লাগবে না। তুমিই আমার সবচে বড় উপহার। আমার সবকিছু। তোমার কোলে রেখে চাঁদ দেখাবে। তারপর আমরা ঘুরে ঘুরে জোছনা রাত গায়ে মাখবো। তাহলেই আমি খুশি।

শুভ্র-তিথি চাঁদের আলোয় মিশে একাকার হয়ে যায়। খুঁজতে থাকে সময়ের সুখময় ডানা। তখনো ঘড়িতে এগারোটা আটান্ন।

তিথি অধীর কিছু শুনতে তৃষ্ণার্ত। আর মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় ছটফট করে শুভ্র। কিন্তু কেউই কোরো মনের ভাবনাকে বুঝতে দেয় না।