চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাহিত্য : ছয় কবির কবিতা

কা ম রু ল  আ জা দ

বৈশাখী

সবুজ ক্ষেতে আসন পেতে

রোদ শুয়েছে আলতো,

রোদের তাপে বাতাস কাঁপে

সুর লহরী তাল তো।

আম বাগানে কার সে গানে

সুরের বীণা বাজছে,

আম তলাতে মনভোলাতে

কোন রূপসি সাজছে ?

ভরদুপুরে পা’র নুপুরে

নাচ জুড়েছে নাচনা,

নাচের বোলে হৃদয় দোলে

নাচন দিয়ে বাঁচ না।

নদীর তীরে পাখির নীড়ে

নাচ চলেছে বেশতো,

হায় কে জানে মায়ার বাণে

নদীর পানি শেষতো।

কচি পাতায় সজীবতায়

রঙ ধরেছে লালচে,

আসলো ধেয়ে আকাশ ছেয়ে

মেঘ মালতি কালচে।

ঝড়ের পাখি কাল বোশেখী

দারুণ ক্ষ্যাপা বাউলা,

হ্যাঁচকা টানে আঘাত হানে

করে আউলা ঝাউলা।

 

 

স্ব জ ন  না হি দ
দুঃখের নদীতে খরস্রোতা জল নেই

কিশোরি গোলাপের ঠোঁটে ভালবাসার ঘ্রাণ

রূপালি চাঁদের পেটে উদাসী রাতের প্রাণ৷

আমি ছুঁয়ে নিই, সে রাতে ভালো থাকার

অকোপটে- মনের মুঠিতে সবলীল প্রেম৷

প্রেমের বন্ধনে রোদেলা বিকেলে-

বুকুলের ছায়ায় স্বপ্ন বুনি হাজারও অভিমানের৷

সে দিনের অপেক্ষায় আছি, যেদিন তুমি

অনুভবের আঁচলে বেধে রাখবে ভালবাসার চাবি

তাইতো আজও হৃদয়ের উত্তরে ঘর বাঁধি,

সময়ের বুকে চেয়ে আঁকি বিদঘুটে স্বপ্ন-

আর প্রেমের গর্ভে জন্মায় আমাদের আমৃত্যু গল্প৷

চিঠির দেয়ালে আজো তো সেঁটে’ আছে

শত শত শব্দ কোষে বিবাগী অনুভূতি-

দঃখের নদীতে খরস্রোতা জল নেই,

শুষ্ক মরুভূমি খাঁ খাঁ করে তার বুকে৷

মাটি কামড়ে থাকা পাথরের মতো-

প্রেমের শরীর কামড়ে থাকে;কালের স্বাক্ষি স্মৃতি৷

 

মা রু ফু ল  হা সা ন

একখানা ভাজা রাত তোমার পাতে

একখানা ভাজা রাত তোমার পাতে।

ভুতের কসম আর কিছুই পাবে না।

চৈতন্যের পুকুরে যে কাঁকড়ার চাষ,

তালে তিলে যার নখে এঁকেছি

বাবলাপাতার যৌবন, তা তোমার না।

মৃত্যুর খাম ছিঁড়ে পড়ে বেজাতে

একখানা ভাজা রাত তোমার পাতে

 

 

 

 

সা য়ে রা  খা তু ন  ফে ন্সী

রমজান মাস

রোজা আসে একবার প্রতিবছরে

খুশির বন্যা বহে মুসলমানের ঘরে

সিয়াম সাধনা ও সংযম ওরে

সব থাকে ঈমানদারের অন্তরে

রোজা শেষে কাঁদে সবার প্রাণ

প্রতিটি মাস হতো যদি রমজান

পবিত্র এক রাত আছে সিয়ামের ভিতর

ইবাদতের শ্রেষ্ঠ রাত লাইলাতুল কদর

গরীবের সুখের জন্য ইসলামের বিধান

ধনীরা তাই করে সব যাকাত প্রদান

খুশির বারতা নিয়ে আসে ঈদুল ফেতর

থাকেনা ভেদাভেদ সব হয় একাকার৷

 

 

 

আ ব্দু ল  আ জি জ

মেঘের দেশে

মেঘের দেশে আমার সখির ঘর

পাহাড় গুলো তারই খেলার সাথী

মন খারাপের সকল ব্যথা, ভাসাই নদীর পর।

কান্না ছলে

বৃষ্টি পড়ে সেখানে দিনমান,

সখির চুলে দুলে লাল ফুল

টুপ টুপ স্বরে বাজে বরষার গান

মেঘ কন্যা এলিয়ে থাকে চুল।

 

কা ম রু ল  ই স লা ম  সা ঈ দ

এইতো জীবন

আজ বয়সের ভারে আছি হাহাকারে

করি

করতে পারি না কোন কাজ

আজ এই বেলায় শত অবহেলায়

এখানে নেই কোন সাঁজ৷

যবে উথাল জোয়ার করেছিনু পার

ছিল কত মোর আয়োজন

বাঁকা এই তণু আজ যেন রংধনু

রংহীন ধূসর এই মন৷

সেই জীবন বেলায় রঙের মেলায়

রাঙিয়েছি পথ ঘাট কত,

আজ হারিয়েছি সব নেই কলোরব

পেয়ে গেনু হেলা অবিরত৷

আমার যৌবন কালে কঠিন ভূতলে

পেরিয়ে গেছি কত দ্বিধা,

আজও সঞ্চার পৃথিবী আমি নির্জীবি

আমি হেথা বড় এক বাধা৷

তাই বড় ভয় হয় মনেরি পাতায়

পেয়েছি কি এতটুকু আশা?

আজ প্রয়াণের গানে তোমাদের মনে

জমেছে কি কিছু ভালবাসা?

 

———————

(কাঁচা শব্দচাষী আছেন অনেকেই। লেখা পড়লেই তা বোঝা যায়। তাদের পড়াশুনা, সাহিত্যে জানাশোনা এগিয়ে যাক। তারা আগামীতে প্রসিদ্ধ হোক- এটা প্রত্যাশা।)

SHARE