জাহাংগীর হোসাইন মানিক’র পুঁথি- একজন অভাগী মা

একজন অভাগী মা
জাহাংগীর হোসাইন মানিক

 

বলি এ কবিতা ||

দুঃক্ষের কথা

চোখে আসে জল

পাপেতে ডুবিয়া গেল

দুনিয়া সকল।

 

ওহে দয়াল গুরু ||

তোমায় স্মরি

কলম লইয়া হাতে

বিপদে তরাইয়া নিবা

এই আশা মনেতে।

 

তুমি অকূলের কূল ||

নাই সমতুল

অন্য কেহ আর

আমি অধম কি বুঝিব

তোমার মহীমার।

 

তুমি কাউরে হাসাও ||

কাউরে কাঁদাও

কাউরে করো ধনী

রাজার কন্যা ভিক্ষা চাহে

হইয়া ভিখারিনী।

 

সবই তোমার খেলা ||

বুঝবার বেলা

শক্তি কারো নাই

আমি অধম গুনাগার

অকূলে সাঁতরাই

 

কেচ্ছা হইলো শুরু ||

দয়াল গুরু কি বলিব আর

অভাগী এক মায়ের কথা

করিব বর্ণন।

 

হায়রে কলিকাল ||

জন্মদাত্রী জনম দুঃখী মায়

যার কারণে আইলা তুমি

এই পৃথিবীর ’পর।

 

মায়ে কোথায় আছে ||

কেমন আছে

রাখলানা খবর

অনাদর আর অবহেলায়

দিন যে মায়ে গোনে

খোকা আসবো বাড়ি ||

 

মা জননী ভাবে মনে মনে

বাতের বড়ি, চোখের চশমা

খুবই দরকারী

খোকা কবে আসবি।

 

 

মায়ের পা চলে না ||

হাত ওঠেনা

নিদ নাহি তার চোখে

বেঁচেও যেন জিন্দা লাশ

এই ছিল কপালে!

 

হায়রে দয়াল গুরু ||

সবই জানো

সবই তুমি বোঝো

এক জীবনে এতো দুঃখ

কেন আমার ভাগ্যে লেখ?

 

আমি সহায়হীন ||

সম্বলহীন

অচল জননী

দু’মুঠো ভাতের তরে

পথে পথে ফিরি।

 

একদিন সবই ছিলো ||

স্বামী-সন্তান

অনেক বড় ঘর

জমি জিরাত

ফল-ফলাদির অভাব ছিলনা।

 

কত সুখে ছিলাম ||

হেসে খেলে চলছিলো দিন ভালো

অগোচরে স্বামী আমার

দ্বিতীয় বিয়ে করে।

 

বেগম বাঁদী হলাম ||

নিজ গৃহে হলাম পরবাসী

আপন জনে পর হইলো

হইলাম গৃহ ত্যাগী

 

ফিরলাম বাপের বাড়ি ||

চেনা মানুষ হলো অচেনা

দাসীর মতো দিন যে কাটে

নিয়ে চোখে জল।

ভাবি সুদিন আসবে ||

 

ছেলে-মেয়ে

অনেক বড় হবে

দুঃখ আমার রইবে নাকো

ওরা মানুষ হলে।

 

মায়ে কাজের বুয়া হলো ||

বাড়ি বাড়ি করে গিয়া কাজ

টাকা-পয়সা যোগার করে

ছেলের শিক্ষার খরচ দেয়।

 

ছেলে বড় হলো ||

চাকরী করে

আছে গাড়ি বাড়ি

এই সমাজে ছেলে আমার

খুবই সম্মানী।

 

বলি ওগো বিধি ||

কোন দোষেতে

এতো কষ্ট দিলি?

আপন স্বামী পর করিল

পথে পথে ফিরি।

 

যাকে বুকে নিয়া ||

দ্বারে দ্বারে ঘুরলাম এ জীবন

নিজেকে উজার করে

করিলাম তৈয়র।

 

সেই ছেলে আমার ||

বুড়ো মায়ের রাখেনা খবর

পরের দয়ায় জীবন আমার

আরতো চলেনা।

 

প্রভু রহম করো ||

ডেকে নাও

তোমার মাটির বুকে,

নিশ্চিন্তে ঘুমোতে চাই

সকল কষ্ট ভুলে।

 

আমি মুক্তি চাই ||

ছিড়তে চাই

মায়ারও বাঁধন

পুড়ে পুড়ে

অঙ্গার হলাম

সারাটা জীবন।

বলি আমার স্বজন ||

ভাই-ব্রাদার

স্বামী-পুত্র-জন

আমাকে ঠকিয়ে গ্যালা

সারাটা জীবন।

 

যত দুঃখ কষ্ট ||

এ জীবনে

গিয়াছি ভুলে

মরণ কালে একটি কথা

বলে যেতে চাই।

 

বড় ভালোবাসি ||

স্বামী-পুত্র-কন্যা ও স্বজন

মনে রেখ

আমি ছিলাম

তোমাদের একজন।

 

শোনেন দেশবাসী ||

একটি কথা

বলতে শুধু চাই

সবার আগে

মায়ের সেবা

করতে হবে ভাই।

 

কবি জাহাংগীর বলে ||

মা জননী

হইলো বেহেশতো

মায়ের যত্ন না করিলে

জ্বলবা দোযখে।

 

এবার ইতি টানি ||

দোয়া চাই

এ অধমের তরে

সবাই মিলে

সুখে রাখব

আমার বৃদ্ধ

মা’কে

শোনেন দেশবাসী…

 

SHARE