পটুয়াখালী সাহিত্য-আয়োজনে তিন কবির কবিতা

অলৌকিক ঝড়
আনোয়ার হোসেন বাদল

সব কিছু ঠিকঠাক ছিলো, একদম স্বাভাবিক
আচমকা মিশরের পীরামিড ভেঙ্গে
উড়ে এলো অভিশপ্ত ফেরাউন,
তার ফুৎকারে ভেসে গেলো নজরুলের প্রথাবিরোধী চুল, বিদ্রোহী কবিতা 
সহস্র টুকরো হয়ে আকাশে মিলিয়ে গেলো
রবীন্দ্রনাথ আর লালনের মানবিক দাড়িগুলো।

সময়ের অলৌকিক ঝড় লন্ডভন্ড করে দিলো আমাদের নমনীয় বাতিগুলো
এখানে আগে মানুষের আবাস ছিলো
হঠাৎ অজস্র শকুন হামলে পড়লো আলোর উৎসমুখে
সাঁইজিকে ডান্ডাবেড়ি পড়িয়ে
নিয়ে গেলো কতিপয় দেবসদৃশ্য প্রহরী।

হিমালয় থেকে জলের বদলে নেমে এলো
নাইট্রিক এসিডের ঢল
পুড়ে পুড়ে ক্রমাগত নি:শেষ করে দিলো
আমাদের ভাস্কর্যগুলো
ভিনগ্রহে উড়ে গেল রবীন্দ্রসঙ্গীতের সমূদয় ফোল্ডার।

তন্দ্রায়, বিভ্রমে পাশকেটে চলে যাই জান্নাতুল ফেরদৌসের তোরণ
ঘুমচোখে কবিতার ঠোঁটে দেখি গোখরোর চুমো
চোখ মেলে প্রশ্ন করি আমি এখন কোথায়?
এখানে কি করছি?
কে একজন উত্তর দেয়
হাবিয়া দোজখের সুরঙ্গ পথে
কবিরা সব হাতরে বেড়াচ্ছ স্বর্গের সিঁড়ি।

 

 

 

যাপন
লুৎফুর বারী পান্না

চোখের ভেতর পাতা নড়ছে, পাতার ভেতর চোখ
জলের ভেতর জল গড়িয়ে উথলে ওঠে শোক
নদীর ওপর নদী ভাঙে, নদীর তো নেই দায়
কোথায় যে কার ঘর ভেঙেছে জলের কিনারায়

কোথায় যে কার রসুইঘরে আগুন ছিলো ঢাকা
কোথায় যে কোন যন্ত্রণামুখ, বুক অাগলে রাখা
কোথায় কবে বনের ভেতর বানিয়েছিলে ঘর
কোন পাহাড়ের শান্ত চূড়োয় আটকে ছিলো ঝড়

এমন অনেক প্রশ্ন যখন এলিয়ে দেবে চুল
নদীর মুখের একলা চরা- বাতাস হুলস্থুল
চোখের ভেতর ভাঙছে নোনা ঢেউ ভর্তি জল
আমার তখন সমুদ্র আর অরণ্য সম্বল

আমরা তখন পাহাড় এবং পাখির কাছাকাছি
আলতো করে বলতে চাওয়া, এইতো বেঁচে আছি

 

 

জীবনচিত্র
তাসনিম রিমি

সভ্যতার যাতাকলে পিষ্ট জীবন
নতুন স্বপ্নের বীজে কিটের ডিম্বানু।
জোনাকির পশ্চাৎদেশের মৃদুতর আলোয় দেখি,
হিলিয়াম গ্যাসে উড়ে যায় স্মৃতির পাতারা।

লাভাময় উত্তপ্ত প্রতিদিনকার রুটিনে কেবলই বেঁচে থাকার প্রত্যাশা।
দৃশ্য অদৃশ্যের সন্ধিস্থলে আমি অক্ষম মানুষ!
অলিখিত শব্দ আলজিবের ওপাশে রেখে,
মৌনতার ব্যানারে সংগ্রামে নামি।

রংধনুর রঙে যুক্ত হয় ধূসর শুভ্রতা,
দু’পয়সার মিথ্যার মোড়কে মোড়ানো
ফ্যাকাসে জীবনে লাগাতে রঙের আঁচ,
কম্পাসের বেড়াজালে নির্ণয় করি গন্তব্য।
প্রতি পদক্ষেপে রাত নামে,
প্রভাতের শিশিরের আশায়।