চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাহিত্যে পাঁচ কবির কবিতা

ও দু দ  ম ণ্ড ল

বিষাদের ছায়া পড়ে জোছনার গায়ে

বিবেকের গ্যাঁড়াকলে হাসিমাখা ফুল,

নিয়তির জাঁতাকলে হারা জাত-কূল ৷

আঁকাবাঁকা আলপথ হতাশার নিশা,

ঘনমেঘে ঢেকে যায় আকাশের দিশা ৷

প্রলেপিত মশলায় সুখদার কায়া,

অবিরাম বিকিকিনি নিশীথের মায়া ৷

ঝাঁকে ঝাঁকে ফুলে বসে মৌমাছির দল,

মেতে ওঠে ক্ষণিকের ভালোবাসা ছল ৷

জেগে জেগে সুখ খুঁজে পাখি নিশাচর,

অবসাদে ভেঙ্গে যায় পথের বাসর ৷

ঢুলু ঢুলু চোখে বুনে স্বপনের জাল,

জোড়াতালি বেড়াটার কেটে যায় তাল ৷

বিষাদের ছায়া পড়ে জোছনার গায়ে,

দিন শেষে ভেসে যায় আঁধারের নায়ে ৷

 

আ রি ফ  আ নো য়া র

স্মৃতির চাদর মুড়ে মরি খেদে পুড়ে

 

মনাকাশে ভাবনা পাখি

উড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে

ঘুট-ঘুটে রাত বৃক্ষ শাখে

পথের বাঁকে বাঁকে।

 

নীলসাদা মেঘ, ঝলসানো রোদ

জ্বলজ্বলে আর ঝকঝকে

ময়ুর নাচে হৃদয় কোনে

আলোয় পেখম চকচকে।

 

সখের যানে পর্যটনে

কাল খেয়েছি ঢের

আয়ুষ্কালের শেষ মোড়েতে

এসেই পেলাম টের।

 

দাদা, বাবা,আমার সাথী

অনেক চেনা জনে

সংগ ছেড়ে গেছেন চলে

অতি সংগোপনে।

 

হিসাব নিকাশ সুত্র ভুলে

ফলের ঝোলা ফাঁকা

শেষের বেলায় উপায়হীনাজ

অসার ছবি আঁকা।

 

হতাশ জীবন কাতরে মরে

স্মৃতির চাদর মুড়ে

অতীতটাকে বৃথাই দেখি

মরি খেদে পুড়ে।

মু র্শি দা  আ খ তা র  মি লি

ধান দোয়েলের শিষ

ধান দোয়েলের শিষ ও শিষে

ধুলো মাটি গন্ধ মিশে মিশে

ব্যাকুল মনে আকুলতা আনে

জানি জানি নিঠুর নিয়তি

বারে বারে টানে টানে টানে!

ছন্নছাড়া পথিক আমি এক

লিখতে গিয়ে কি লিখেছি দ্যাখ

মায়ের নিবিড় মায়ার বদলে

দিচ্ছি এঁকে তারি বুকে ক্ষত

আঁধার যদি ললাট লিখন হয়

সে বাঁচা কি মরণ সম নয়?

 

আ ক্তা রু জ্জা মা ন  বা বু

প্রেম অনল

 

নিরব রাতের মতন

এসো নিঃশব্দে কথা বলি

লজ্জা ভাঙুক লাজুক চোখের

নৃত্য করুক কম্পিত ঠোঁট

মৃদু বাতাস বেশে ছুয়ে যায় তোমার শরীর

অনুভূত স্পর্ষে আগুন জ্বলুক শুভ্র শরীরে

প্রেমানল তান্ডবে পুড়ে মরি

গভীর প্রেম ও মিলন বাসনায়।

 

বিষাক্ত সাপের মতন ফোনা তুলে

প্রাণ ভরে করেছ দংশন

যত খুশি ততো বার;

প্রেম যান্ত্রনায় আক্রান্ত শরীর

ক্রমশ অসাড় হয়ে আসছে

তোমার ঢেলে দেওয়া অমৃত গরলে ।

 

চাঁদের আলো ম্লান হয়ে আসছে

এখনি রাত ভোর হবে

সাদা পাপড়ি লাল বৃন্ত শিউলি

সন্ধ্যায় কলি হয়ে

ঐশ্বর্যময় অঙ্গসৌষ্ঠবে

সুগন্ধ ছড়িয়ে ফুটেছ সারারাত

ভোর না হতে ঝরে গেছ তুমি

 

কোন এক প্রেমিক

রাত ভোর কেঁদে কেঁদে ঝরেছে শিশিরের মত

ভোর হওয়ার আগেই শিশির সিক্ত ফুল দিয়ে

ঢেকে রেখে গেছে

প্রেমের সমাধি।

 

 

শা হ্‌ রু জ্জা মা ন  তু হি ন

তারুণ্য

আঠারো বছর বয়সটার নাহি ভয় নাহি  ডর,

এই বয়সে মুক্ত হয় বাধাহীন পথটার।

আজ এই মাঠে কাল ও হাটে ছুটাছুটি সারাদিন,

শত ঝামেলা মাথাই নিয়ে আছি নিন্দ্রাহিন।

এই বয়সে সব কাজে এক ধাপ এগিয়ে

যতই ঝুকি হোক না কেনো আসিনিত কভু ফিরে

মনে যা ইচ্ছা হয় সে কাজ করতে যায়

কল্পনার জগতকে বাস্তবে গড়তে চাই

দুর্বর দুর্যোগ  প্রতিরোধের এই সময়

তাইতো নেমে আসে হাজার সংশয়

 এই বয়সে সপ্ন আকি নতুন জিবনের

এই বয়সে ব্যাস্ত থাকি জ্ঞান সাধনে

এই বয়সে জিবন ভাংজ্ঞে জিবন গরে

সারা জিবনের সুর্য এই জিবনেই উঠে