সমাজ
ফারিয়া জেরিন

আমি সেই সমাজে বসবাস করি যেখানে নারীর জীবন বড় কষ্টের। নারী শব্দের পূর্ন অর্থ আমার জানা নেই। তবে আমার ধারণা নারী মানে না বলার অধিকার যার নেই সেই নারী। যারা রক্তসূত্রে পেয়েছে দাসত্ব সে হাওয়া থেকেই পাক আর ইভ থেকেই হোক।

আমি নারী বলেই কি সব সহ্য করতে হবে ? সমাজ কেনো আমার পায়ে বেড়ি পড়িয়ে দেবে ?
সমাজের কথা বলতে গেলে হাসি পায় আবার খারাপও লাগে। আমি সেই সমাজের নারী যে সমাজে একদিন নারীকে জ্যান্ত পুরিয়ে মারত। আমি সেখানে জন্মেছি যেখানে নারীকে পশুর চেয়েও নিচু মনে করা হত। সেই সমাজের মেয়ে আমি যেখানে মেয়েদের ঘরে অব রুদ্ধ করে রাখা হত। গৌড়িদান নামে পশুর মতো বলি দেয়া হত ।
বিয়ে নামে দর কষাকষি চলে সঠিক দর উঠলেই তার বিয়ে হবে। মেয়েদের ইচ্ছা বলে কিছু থাকতে নেই !  ইচ্ছা সে আবার কি জিনিস ?  তাও আবার মেয়েদের ?  এতো সমাজের হাসির কথা । আমি আজো সে সমাজের দিকে তাকিয়ে যে সমাজ ক্রমশ পরিবর্তন হচ্ছে। তোমাকে আজ যেটা করতে হচ্ছে কাল তা আর করতে দেবে না। এক সময় সমাজ যা ঠিক মনে করে অন্যসময় তা আবার তারাই অন্যায় মনে করেন। তাদের দেয়া রীতি মেনে চললেই ভদ্র বিনয়ী আর যদি রীতি ভাঙ্গ তবেই সে অবাধ্য। সমাজ পালটায় পালটে যায় তার সাথে সাথে আমাদের জীবন ব্যাবস্থাও। আমি এই সভ্য সমাজেরই একজন। তবে সব রীতি ঠিক মেনে নিতে পারিনা। সমাজ এতো বেশি পরিবর্তশীল যে তার সাথে তাল মেলাতে ইচ্ছা করেনা ।  জীবন আমার । আমি ঠিক করব কি করব, সমাজ না। সমাজের পরিবর্তনশীলতা তো ভালো কথা,তাই বলে মেয়েদের কেনো সমাজ এভাবে পদে পদে আটকে দেবে। যদি কেউ বলে তা বলে কি নারী এগিয়ে যায়নি ?

হ্যা এগিয়েছে, নারী এগিয়েছে তার নিজের চেষ্টায়। হাজারো বাধা পেরিয়েই আজ তারা এগিয়েছে । কিন্তু সমাজ আজো নারীর অগ্রসর হওয়ার পিছু ছাড়েনি। নানা ভাবে আজো আটকে দেবার চেষ্টা । পদে পদে কাটা বিছিয়ে রাখে। যারা সমাজ এর অর্ধাংশ । তাদের কেনো আটকে দিতে চায় ?

অনেক ভেবেছি । উত্তর মেলেনি। যত দিন এভাবে আটকে দেবে নারীকে তত দিন কি পূর্ন অগ্রগতি পাবে সমাজ ? যখন কোনো নারী গাছে ওঠে সেটা অব্যশই নিন্দনীয় । কিন্তু সেই সমাজের নারী নিসাত মজুমদার যখন এভারেস্ট জয় করে তখন সেই হয় গর্ব।
অথচ সেই নিসাত মজুমদার যখন কোনো গাছে চড়েছিলো তখন তাকেও নিন্দা করা হয়েছিলো ।

SHARE