আল-আকসা মসজিদে সিসি ক্যামেরা বসাল ইসরায়েল

বিরোধপূর্ণ মসজিদুল আকসার প্রবেশমুখে নিরাপত্তামূলক ক্যামেরা স্থাপন করেছে ইসরায়েল। মসজিদ প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ফটক বসানোর প্রতিবাদে সপ্তাহজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় ফটকের বিকল্প হিসেবে ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ। আল জাজিরার সংবাদে প্রকাশ।

দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেম থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক থেকে ইমরান খান জানিয়েছেন, আল- আকসা মসজিদের প্রবেশদ্বারে ক্যামেরা স্থাপন করায় ফিলিস্তিনি জনগণ ভীতি প্রকাশ করেছে।

তিনি জানান, ফিলিস্তিনিরা এতে ক্ষুদ্ধতা প্রকাশ করেছে, কারণ একে তারা নিরাপত্তার নামে বাড়াবাড়ি হিসেবে দেখছে। কারণ ইতিমধ্যে মসজিদে প্রবেশ করতে তাদের মেটাল ডিটেক্টর পার হতে হচ্ছে।

ইসরায়েল গত সপ্তাহে মেটাল ডিটেক্টর দ্বারা নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করে মসজিদ প্রাঙ্গণে। ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীরা দুই ইসরায়েলি পুলিশকে হত্যা করার পর এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, আরও আক্রমণ প্রতিহত করতে এ ধরণের পদক্ষেপ প্রয়োজন মনে করেছে।

কিন্তু ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করছে যে, বিক্ষুব্ধ মুসল্লীদের প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে এবং মুসলমানদের এলাকায় ইসরায়েল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করছে এর মাধ্যমে।

৭৬ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি মুসল্লী হুসেইন দা’না বলেন, আমরা এসব ক্যামেরা স্থাপনকে প্রত্যাখ্যান করলাম। কারণ এগুলো ফিলিস্তিনিদের অসুবিধায় ফেলতে করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, মসজিদে প্রবেশের সময় ফিলিস্তিনিদের চেহারা শনাক্ত করে রাখতে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ফিলিস্তিন বিষয়ক ইয়োভা মোরাদেচাই বলেন, মেটাল ডিটেক্টর বসানোর পর উত্তেজনা কমাতে বিকল্প পন্থা হিসেবে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা পরবর্তী যে কোন ধরণের হামলা প্রতিরোধ রুখে দিতে পারব।

আগের সপ্তাহে ২ ইসরায়েলি পুলিশের নিহতের ঘটনায় মসজিদ এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জেরে মসজিদুল আকসার প্রাঙ্গণে ৩ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েল। সেইসাথে মুসল্লীদের জন্য বন্ধ করে দেয় মসজিদ। পরবর্তীতে প্রতিবাদের মুখে নামাজের জন্য মসজিদের দরজা খুলে দিলেও ফটকে বসায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফিলিস্তিনিরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা পেরিয়ে মসজিদে প্রবেশে বিরোধিতা করে এবং সেটি তুলে নেয়ার বিক্ষোভ শুরু করে। এরমধ্যে দিয়ে চলমান বিক্ষোভে কয়েক শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হন এবং আরো কয়েকজনকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। সূত্র-আল জাজিরা

SHARE