পিঁপড়া ।। আবিদা সুলতানা

পিঁপড়ার পৃথিবীটা অনেক সুন্দর তাইনা ? স্রস্টা তার প্রতিটি সৃষ্টিই অর্থপূর্ন করে গড়ে তুলেছেন। সামান্য পিপড়ার জীবনটাই কি অদ্ভুদ সুন্দর। একটা পিঁপড়া বাড়ির উঠনের মধ্য বসে উর্ধপানে তাকালে মনে হবে পুরো পৃথিবীটা দেখছে । একটা ছোট্ট পাতার ভেলায় বসে পুকুরটাও তার কাছে মহা সাগর লাগে।
পিঁপড়া নিয়েই গল্প লিখেছেন আবিদা সুলতানা।

  • পিপড়ি পিঁপড়াকে বলছে কি গো আজ হাটে যাবে না?
  •  পিঁপড়া:  না গো এই জলবৃষ্টির মধ্য আজ আর বেরবনা। কি জানি কোথায় ভাষিয়ে নিয়ে যায়।
  • পিঁপড়ি, তা যাবে কেনো/ দিন দিন তুমি অলস হয়ে যাচ্ছ।বয়স বাড়ছে এখন সঞ্চয় করা খাবার খেতে শুরু করলে যখন খাবার আনার মতো ক্ষমতা থাকবে না তখন কি করবে ? ছেলে গুলো সেই সকালে বেড়িয়ে গেছে বৃষ্টি মাথায় করে। আর তুমি বেড়লে না।
  • পিপড়িকে থামিয়ে দিয়ে পিঁপড়া বলল আমার কি সেই বয়স আছে গিন্নি। সেদিন কি হয়েছে শোনো । হাটে যাবো বলে গাড়িতে বেয়ে বেয়ে উঠলাম। গাড়ি ছাড়ার নামই নেই । অনেক দিন তো দেখলাম বুঝলে, এই মানুষগুলোর কাছে সময়ের কোন মূল্যই নেই। এরা কেবল টাকা দিয়ে কেনা জিনিসগুলোকে মূল্যায়ন করে। তারপর কি হলো শোনো হঠাৎ নামলো ঝুমবৃষ্টি। কোথায় লুকাব জলে যে ভেসে যাই।
    যেইনা ভেসে যেতে শুরু করলাম , অমনি কামড়ে ধরলাম জায়গাটাকে। ওমা! পরে দেখি জায়গা না গো গিন্নি এক লোকের হাতে কামড়ে ধরেছি। আর যাই কোথায় মাড়ল আমায় ছুরে ভাগ্য ভালো পিষে দেয়নি। যা স্বভাব ওদের । গড়িটাও ছেড়ে চলে গেলো এদিকে আছাড় খেয়ে আমার সামনের একটা পা মচকে গেলো। অনেক কষ্টে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বাড়ি এলাম। তোমাকে বলিনি অযথা চিন্তা করবা তাই। মজার কথা কি জানো গিন্নি মানুষ আর মানুষ নেই কো, ওদের কামড়ে দিলে ওদের কিছু হয়না কো উল্টো ওদের শরিরের বিষই আমরা নিতে পারিনা !তাই আর বর্ষায় বাইরে বেড়তে ভালোলাগে না কো।
  • আচ্ছা হয়েছে হয়েছে আমি এক কথা বলতে এলাম আর উনি আমাকে মহাভারত শোনাতে বসলেন। তোমার কথা শুনলে আমার কাজ হবে,বাছারা আমার চলে আসবে। সেই সকালে বেড়িয়েছে। এসে যদি খেতে না পায় এই বলে পিঁপড়ি চলে গেলো।

পিঁপড়ে বসে আছে একা। বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। গাছগুলো যেন বৃষ্টির ভার নিতে পারছেনা নুয়ে পড়ছে। চারদিকটা অন্ধকারাছন্ন , একটানা ডেকে যাচ্ছে ব্যাঙ । বৃষ্টির শব্দে শব্দে মিশে যাচ্ছে পিঁপড়ার অনূভুতি। হঠাৎ স্বশব্দে বজ্রপাত হলো পিপড়ে লাফিয়ে উঠলো। এদিকে পিঁপড়ের দুই ছেলে সেই সকাল থেকে এই দোকানের কোনে বসে আছে। বাসা থেকে বের হলো আর অমনি বৃষ্টি নামল। এরপর এক পাতা উঠে ভেষে যায় কিছু দূর আবার স্রোতে ভেসে যায় কিছু দূর। এভাবে ভেসে ভেসে এই দোকানের কোনে এসে বসে ।
কাদামাটিতে মাখামাখি সবকিছু কোনো খাবারই জোটাতে পারেনি তারা।

  • বড় ভাই গপু বলে, দেখ ভাই দেখ ।
  • ছোট ভাই বিপু বলে কি দেখব ?
  • আরে সামনে দেখ চিনির এক মস্ত দানা পড়ে আছে চল নিয়ে আসি।

দানাটার কাছে পৌছতে পৌছতে, আরো দুই তিনটা পিঁপড়া সেখানে উপস্থিত। তাড়াও দানাটার দাবিদার ।গপু আর দিপু বলে এটা আমরা আগে দেখেছি আমরা নিবো আর অন্য দল বলে আমরা আগে দেখেছি। দু দলই তর্ক করছে, যে ভাবেই হোক দানাটা তাদের চাই। এমন সময় বৃষ্টির এক ফোটা জল এসে পড়ে চিনির দানাটায়।অমনি দানাটা গেল গলে।দুই দলই চেয়ে আছে অসহায়ের মতো মুখের দিকে। কই গেলো এতো কষ্টের খাবার।বিপু গপুকে বলে চল ভাই বাড়ি ফিরে যাই। বৃষ্টি কমলে আবার আসব। এই বলে সামনে ভেসে যাওয়া পলিথিন এর উপর উঠে ভেসে চলল। কিছুদূর যেতেই পলিথিনটা আটকে গেলো। বিপু বলে কি হলোরে ভাই। পলিথিন আটকে গেল কেন। মানুষের পায়ে আটকে গেছিরে ভাই। বিপু কামড়ে দেনা ভাই , ভাইয়ের কথা শুনে কামড়ে দিতে যাবে অমনি মানুষটা ছুট লাগালো, গপু আর বিপু লোকটার পায়েই থেকে গেলো। পিছনে আরো কতগুলো মানুষ ছুটছে। বিপু বলে দেখ ভাই মানুষগুলোর হাতে বড় বড় মাংস কাটা হতিয়ার। খাবার পাবার আশা দেখে দুই ভাইয়ের চোখ চকচকিয়ে উঠল। গপু বলল চল ওদের সাথে যাই। খাবার নিয়ে গেলে মা অনেক খুশি হবে। হঠাৎ করে সামনের মানুষটা মা বলে চীৎকার করে ওঠে। লাল লাল কি জেনো গড়িয়ে পড়ল বৃষ্টির পানির মধ্যে।পিছনের লোকগুলো সামনের মানুষটাকে কাটছে।হাতে কাটছে, পায়ে কাটছে, পেটে কাটছে,সব শেষে মস্তকটা আলাদা করে ফেলল ! পায়ের কাছে মথাটা এলো আর দেহটা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। বিপু বলে ভাই অই হাতিয়ার গুলো দিয়ে গরু কাটতে দেখেছি মুরগি কাটতে দেখেছি মানুষকে! মনে আছে সেই বার কসাইখানায় মাংস খেতে গেছিলাম। তুই বলছিলি যে দেখছিস ভাই মানুষের কত বুদ্ধি ! সব বড় বড় গরু ছাগল কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে। অথচ ওদের কেউ এভাবে কাটতে পারে ?
দেখ ভাই কি বোকা ওরা,ওরা তো নিজেরাই নিজেদের কাটে !

বিপু বলে চল ভাই, যে প্রানি নিজের স্বজাতিকে এমন গরু ছাগল এর মত কাটে তাদের রক্ত মাংস খেয়ে দেখি কি এমন স্বাদ যার জন্য ওরা স্বজাতিকে মারে।
বিপু আর গপু রাস্তায় বৃষ্টির জলে ভেসে যাওয়া রক্তে চুমুক দেয়। হঠাৎ গপু চিৎকার দিয়ে ওঠে। বিপু বলে কি হলো ভাই ? গপু কাতর কন্ঠে বলে ওঠে ওদের আরো রক্ত চাই, তাই পায়ের তলায় পৃষ্ঠ হলাম ভাই ।

SHARE