লাল পিঁপড়ার পাহাড় ।। সুমন জিনো

সেই কবেকার কথা। পিঁপড়ারা যখন সমতলে থাকতো! সেই তখনও কেইবা তাদের ভালোবাসতো । যেখানে মানুষই তাদের ভালো চাইনি আর সেখানে প্রকৃতিই বা কতটুকু ভালো চাইতে পারে। বন্যা ঝড় আর তার সাথে মানুষের অত্যাচার অনাচার লেগেই থাকতো। তাই তারা একদিন ঠিক করলো সবাইমিলে একটা পাহাড় বানাবে। সেই পাহাড়ে তারা বসতি গড়বে আর তার নাম হবে লাল পিঁপড়ার পাহাড়। তারা সত্যিই পাহাড় বানালো তাও আবার মানুষের সভ্যজগৎ থেকে অনেক দূরে একটা সবুজ পাহাড় যে পাহাড়ের মাথায় উঠলে আকাশকে খুব কাছের মনে হয় আপন মনে হয়, যে পাহাড়ের মাথা ছুঁয়ে মেঘেরা খেলা করে। এমন সুন্দর একটা পাহাড়। পিঁপড়ারা খুব সুখে শান্তিতে বসত করতে লাগলো। এরপরই মানুষেরা হঠাৎ এই সুন্দর পাহাড়ের সন্ধ্যান পেয়ে গেলো। দলে দলে ঝাঁকে ঝাঁকে বেড়াতে আসা শুরু করলো। এতে করে পিঁপড়ারা প্রথমে বিব্রত হলেও পরে অনন্দিত হলো বটেও!! কারণ তাদের উৎপাদিত পণ্য মানুষেরা টাকা দিয়ে কিনতে থাকলো। এতে করে তারা অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত হতে লাগলো। এরপর সুন্দর এই পাহাড়ের উপর মানুষের লোলুপ দৃষ্টি পড়লো অনেকটা জোর করেই পিঁপড়াদের পাহাড়ে মানুষেরা বসতি স্থাপন করলো। আস্তে আস্তে হোটেল, রিসোর্স আরো অনেক অনেক ব্যাবসা বানিজ্য শুরু হয়ে গেলো। পিঁপড়ারা অজানা এক ভয়ে মানুষের কাছে থেকে আরো দুরে সরে যেতে লাগলো। আরো নতুন নতুন পাহাড়ের সৃষ্টি করতে লাগলো। কিন্তু বিধিবাম যেখানেই তারা যাই সেখানেই মানুষের হানা। এসবের কারণেই পিঁপড়ারা একসময় বিদ্রোহী হয়ে উঠলো! কিন্তু তাতে লাভ কি হলো! আইন কানুন সবই তো মানুষের হাতে উল্টো তারা সন্ত্রাসীর তাকমা গায়ে লাগালো ও সেই সাথে পাহড়ের মালিকানা হারিয়ে বসলো। এখন সেখানে মানুষের আধিপাত্য মানুষের যা ইচ্ছে হচ্ছে মানুষ তাই করছে। খুন, ধর্ষণ চাঁদাবাজি পিঁপড়াদের বাড়িঘর পর্যন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমন কি পিঁপড়াদের পাহাড় কেঁটে মাটি নিয়ে তা দিয়ে বানানো হচ্ছে ভাটায় পুড়িয়ে ইট। কেঁটে ফেলা হচ্ছে পাহাড়ের সবুজ গাছগাছালি। আজ অত্যাচারিত পাহাড়। আজ অত্যাচারিত পাহাড়ের প্রকৃতি। তাই রাগে দুঃখে ক্ষোভে অত্যাচারিত পাহাড়গুলি নিজেরাই নিজে থেকে নিজেদেরকে ধংস করে দিচ্ছে। ধসে পড়ছে সে ! তার কান্নার জল আজ হচ্ছে পাহাড়ি ঢল। সমানে সমানে মরছে হাজার হাজার অসভ্য মানুষ আর নিরীহ পিঁপড়ার দল। তাহলে কি পাহাড় প্রতিশোধ নেওয়া শুরু করলো ? নাকি নিজেই নিজেকে বলি দেওয়া ? যদি তাই হয়, তবে নিরীহ পিঁপড়ার কি দোষ ?

লেখক: কো-চেয়ারম্যান,  মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশন

SHARE